Breaking News:


শিরোনাম :
চট্টগ্রামকে হারিয়ে বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণ করতে হলে অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে জামায়াত সরকার গঠন করলে দেশ চাঁদাবাজ মুক্ত হবে: শফিকুর রহমান জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক, এটাকে অশনিসংকেত হিসেবে দেখি: ফরহাদ মজহার যারা ফ্যাসিবাদের সহযোগী তারাই ‘না’ ভোট চাচ্ছে : স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা পল্টনে স্কুলে শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতন, ব্যবস্থাপক কারাগারে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড স্থাপন করবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট: মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনের আহ্বান নির্বাচন কমিশনের মাগুরায় ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভাঙচুর ১৬ ঘন্টায় ৭ জেলায় সমাবেশ, লাখো মানুষের ঢল: ভোরে ঢাকায় ফিরলেন তারেক রহমান

আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে বড় বন্যার আশংকা

  • আপলোড টাইম : ১১:০৩ এএম, বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৭৭ Time View
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
বৃষ্টিপাত বেড়ে দেশের আটটি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

মঙ্গলবার ১২ আগস্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এমন সতর্কতা দিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানিয়েছেন, জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার স্থানসমূহে সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক অপেক্ষা অধিক বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে।

এর ফলে মূলত দেশের গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানির সমতল বাড়ার উল্লেখযোগ্য প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী দুদিন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানের অববাহিকার অনেক স্থানে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে, যা পরে হ্রাস পেতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ থেকে ১৪ আগস্ট অথবা সন্নিহিত সময়ে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগ ও সংলগ্ন উজানে ভারতের সিকিম, হিমালয় পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম প্রদেশে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বর্ণিত অঞ্চলে স্থানভেদে তিন দিনে সর্বমোট ২০০-২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

১৪ আগস্টের মধ্যে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানির সমতল বাড়তে পারে। এই সময়ে উক্ত নদীসমূহের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম জেলার উক্ত নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলসমূহ প্লাবিত হতে পারে।

এদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানির সমতল ধীর গতিতে বেড়েছে। গঙ্গা নদীর পানির সমতল আগামী তিন দিন (১৫ আগস্ট ৯টা পর্যন্ত) স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং ১৫ আগস্টের পর থেকে পরবর্তী ১২ দিন (২৭ আগস্ট পর্যন্ত) হ্রাস পেতে পারে।

যমুনা ও গঙ্গার মিলিত প্রভাবে আগামী চার দিন পদ্মা নদীর পানির সমতল বেড়ে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এই সময় রাজবাড়ী, ফরিদপুর, পাবনা, মানিকগঞ্জ জেলার উক্ত নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলসমূহ সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। পরে ১৯ আগস্টের পর থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ওই নদীসমূহের পানির সমতল ধীরগতিতে হ্রাস পেতে পারে।

এদিকে কানাডার সাসকাচুয়ার ইউভার্সিটির আবহাওয়া বিষয়ক পিইউচডি গবেষক, আবহাওয়া ডট কমের প্রধান আবহাওয়াবিদ মোস্তফাকামাল পলাম ১১ আগস্ট তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পূর্বাভাসে জানান, আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে  বাংলাদেশে একটি বড় মানের বন্যার আশংকা করা যাচ্ছে ।

বাংলাদেশে বর্ষাকালের প্রকৃত একটি বন্যার আশংকা করা যাচ্ছে। ২০২০ সালের পরে প্রকৃত পক্ষে দেশ-ব্যাপী বড় কোন বন্যা হয় নি। ২০২২ সালে সিলেট বিভাগে ও ২০২৪ সালে চট্রগ্রাম বিভাগে যে বন্যা হয়েছিল তা ছিল ফ্লাশ-ফ্লাড বা পাহাড়ি ঢল।

বর্ষাকালের স্বাভাবিক বন্যা বলতে বুঝানো হয় ভারতের গঙ্গা নদী অববাহিকা হয়ে বাংলাদেশের পদ্মা নদীর মধ্যে প্রবেশ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলো প্লাবিত হওয়া। একই ভাবে তিস্তা- বক্ষণপুত্র-যমুনা নদীর উপকূলবর্তী জেলাগুলোর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়া।

আশংকা করা যাচ্ছে ২০২০ সালের পরে ২০২৫ সালে পদ্মা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর তীরবর্তী ২০ থেকে ৩০ টি জেলা বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ার। সাম্ভব্য এই বন্যাটি আগষ্ট মাসের ১৫ তারিখের পর থেকে সেপ্টেম্বর মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পদ্মা, যমুনা, তিস্তা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী জেলাগুলোর উপরে দিয়ে অতিক্রমের আশংকা করা যাচ্ছে। 

আগস্ট মাসের শেষ দিকে ও সেপ্টেম্বর শুরুর দিকে কেন বাংলাদেশে একটি বড় মানের বন্যার আশংকা করা যাচ্ছে তার সপক্ষে তথ্য-প্রমাণ সহ যুক্তি উপস্থাপন করে একটি গবেষনাধর্মী পোষ্ট প্রকাশ করা হয়েছে আবহাওয়া ডট কম ওয়েবসাইটে। বিস্তারিত তথ্য জানতে আগ্রহি ব্যক্তিদের আবহাওয়া ডট কম ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোষ্ট পড়ার অমন্ত্রন রইলো। গণমাধ্যম কর্মীরা ঐ পোষ্ট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। 

আগস্ট মাসের শেষ দিকে ও সেপ্টেম্বর শুরুর দিকে কেন বাংলাদেশে একটি বড় মানের বন্যার আশংকা করা যাচ্ছে তার সপক্ষে কিছু প্রমাণ ও যুক্তি উপস্থাপন কর হলও নিচে।   

আশংকা করা যাচ্ছে আগস্ট মাসের অবশিষ্ট ২০ দিনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে পর-পর ২ টি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টির আশংকা করা যাচ্ছে। প্রথমটি ১৩ ই আগস্ট থেকে ২২ শে আগস্ট এবং ২য় টি ২৪ শে আগস্ট থেকে ৩০ শে আগস্ট। প্রথম মৌসুমি লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ও ২য়  মৌসুমি লঘুচাপটি দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টির আশংকা করা যাচ্ছে।

প্রথম মৌসুমি লঘুচাপের কারণে গঙ্গা নদীর অববাহিকার উপরে প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির আশংকা করা যাচ্ছে। দ্বিতীয় মৌসুমি লঘুচাপের কারণে  ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকার উপরে প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির আশংকা করা যাচ্ছে। এই দুই মৌসুমি লঘুচাপের কারণে প্রায় একটানা ১৫ থেকে ২০ দিন বৃষ্টিপাতে আশংকা করা যাচ্ছে বাংলাদেশ সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর উপরে। 

১৩ ই আগস্ট থেকে ২২ শে আগস্ট পর্যন্ত  প্রথম মৌসুমি লঘুচাপটি সৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ১০০% নিশ্চিত।  দ্বিতীয় মৌসুমি লঘুচাপটি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।

আমেরিকার জাতীয় আবহাওয়া সেবা (National Weather Services) সংস্থা কর্তৃক জারিকৃত পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে আগস্ট মাসের অবশিষ্ট ২০ দিন বাংলাদেশ ও পূর্ব ভারতীয় রাজ্যগুলোর উপরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে বৃষ্টির আশংকা করা যাচ্ছে।

স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা বড় ৪ টি বন্যা হয়েছে ১৯৮৮ সালে, ১৯৯৮ সালে, ২০১৬ সালে ও ২০২০ সালে। এছাড়াও গত ২০ বছরে স্বল্প সময়ের জন্য ও ছোট মানের বন্যা হয়েছিল ২০০৭ ও ২০১০ সালে। দৈবক্রমে এই বন্যা দুটিও সংগঠিত হয়েছিল ২০০৭ (দুর্বল এলনিনো অবস্থা) ও ২০১০ (শক্তিশালী এলনিনো অবস্থা) সালের এলনিনো অবস্থা শেষ হবার অব্যহিত পরের বর্ষা মৌসুমে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech