।।বিকে রিপোর্ট।।
একীভূত হওয়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ইসলামি ব্যাংক আগামী সপ্তাহ থেকেই নতুন নাম ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ পরিচয়ে গ্রাহকদের টাকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হতে পারে। ডিপোজিট গ্যারান্টির আওতায় প্রথমে দুই লাখ ফেরত দেওয়া হবে।
সোমবার ৮ ডিসেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি’ শীর্ষক প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এ কথা বলেন।
পাঁচ ব্যাংক হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন, এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এর আগে দেশজুড়ে পাঁচ ব্যাংকের সব সাইনবোর্ড পরিবর্তন করা হবে।
সূত্র জানায়, আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে আমানত বিমা তহবিলের আওতায় প্রতি আমানতকারীকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে একটি হিসাব থেকে আপাতত এই টাকা উত্তোলন করা যাবে। শুধু ব্যক্তিগত আমানতকারীরাই এই সুবিধা পাবেন।
গত রবিবার গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সভায় ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন এই ব্যাংকটি সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক; ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে অধিগ্রহণ করবে।
এ জন্য মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবনে নতুন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে বাকি ১৫ হাজার কোটি। অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। ইতোমধ্যে সরকারের বরাদ্দকৃত ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়ও করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের অর্থসহায়তা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় একীভূতকরণে আর কোনো বাধা নেই। বর্তমানে স্বতন্ত্র পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে।
গভর্নর বলেন, একীভূত নতুন ব্যাংকগুলো প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী প্রথম বা দ্বিতীয় বছরের মধ্যেই লাভজনক অবস্থায় যেতে পারে। লোকসানি প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘লভ্যাংশ নয়, বোনাস নয়’ নীতিমালা কঠোরভাবে কার্যকর রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও জবাবদিহিতা জোরদার করতে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশও পর্যালোচনার আওতায় আনা হয়েছে। আর যেসব কর্মকর্তা প্রদত্ত ঋণ দ্রুত খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ১৪টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে, পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং নয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসান প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। পাশাপাশি আমানত বিমা আইন, ব্যাংক রেজ্যুলেশন অধ্যাদেশ ও ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সব শাখায় একযোগে টাকা বিতরণ শুরু হবে না; ধাপে ধাপে প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন শাখা থেকে টাকা প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই না গ্রাহকরা আতঙ্কে টাকা তুলতে ছুটে আসুন। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ।