।।বিকে ডেস্ক।।
মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই
ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই।।
এই পৃথিবীতে একমাত্র নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতীক হলেন মা। যিনি সন্তানের জন্য নিজের সবটুকু বিলিয়ে দেন। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, গান, সিনেমা, ইতিহাস সবখানে মায়ের অসীম ত্যাগ ও ভালোবাসা নিয়ে রয়েছে অসংখ্য উদাহরণ। ধর্মেও মাকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
আজ বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর সব থেকে আপন শব্দ হলো ‘মা’। যে মায়ের কল্যাণে পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখে সন্তান, সেই মায়ের স্মরণে প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে বিশ্ব মা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
জানা যায়, ভার্জিনিয়ায় অ্যান নামে এক শান্তিবাদী সমাজকর্মী ছিলেন। তিনি কাজ করতেন নারী অধিকার নিয়ে। ‘মাদারস ডে ওয়ার্ক ক্লাব’ নামে একটি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। অ্যানের একটি কন্যাসন্তান ছিল, যার নাম আনা মারিয়া রিভস জারভিস। একদিন ছোট্ট মেয়ের সামনেই অ্যান হাত জোর করে বলেছিলেন, ‘আমি প্রার্থনা করি, একদিন কেউ না কেউ, মায়েদের জন্য একটা দিন উৎসর্গ করুক। কারণ তারা প্রতিদিন মনুষ্যত্বের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে চলেছেন। এটি তাদের অধিকার।’
১৯০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আনা জারভিস নামের নারী মারা গেলে, তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সচেষ্ট হন। ওই বছর তিনি তার সান ডে স্কুলে প্রথম এ দিনটি মাতৃ দিবস হিসেবে পালন করেন।
এরপর, ১৯১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে ‘মা দিবস’ ঘোষণা করেন।
এরপর থেকে প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বের দেশে দেশে পালিত হয় দিবসটি। বাংলাদেশেও দিনটি নানা আয়োজনে পালিত হয়।
‘মা’ শব্দের ভেতর জড়িয়ে আছে জন্ম, নিরাপত্তা, আত্মত্যাগ, মমতা, শিকড় আর অস্তিত্বের গল্প। একজন মানুষের জীবনে প্রথম যে আশ্রয়, স্পর্শ ও ভাষা, তার অনেকটা শুরু হয় মায়ের মধ্য দিয়ে। তাই যুগে যুগে, সভ্যতা থেকে সভ্যতায়, ভাষা থেকে ভাষায় মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নানা রীতি তৈরি হয়েছে। আধুনিক বিশ্বে সেই অনুভূতিরই একটি বৈশ্বিক প্রকাশ বিশ্ব মা দিবস।
পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।