।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৫০০ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১০০০ মানুষ।
সোমবার ১ সেপ্টেম্বর এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, রাতের আঁধারে আঘাত হানা ভূমিকম্পে বমপক্ষে ৫০০ জন নিহত এবং আরও ১০০০ জন আহত হয়েছেন বলে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক রেডিও টেলিভিশন আফগানিস্তান (আরটিএ) জানিয়েছে।
রবিবার ৩১ আগস্ট রাতে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গ্রিনিচ মান সময় রাত ১৯টা ১৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল জালালাবাদের ২৭ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে এবং ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাত্র ৮ কিলোমিটার। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ধরা পড়েছে ৬.০।
আফগান তথ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, কুনার প্রদেশের নূর গাল, সাওকি, ওয়াতপুর, মানোগি এবং চাপা দারা জেলায় বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, বহু প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি এবং উদ্ধারকারী দলগুলো ওই সব এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
আফগান প্রশাসনের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘দুঃখজনকভাবে, আজ রাতের ভূমিকম্পে আমাদের কয়েকটি পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দারা উদ্ধার তৎপরতায় নেমেছেন এবং কেন্দ্রীয় ও পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলো থেকেও সহায়তা দল ঘটনাস্থলের পথে রয়েছে।
এদিকে ইউএসজিএস জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর একই এলাকায় অন্তত আরও দুটি শক্তিশালী আফটারশক আঘাত হেনেছে, যার মধ্যে একটি ছিল ৫.২ মাত্রার। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ভূমিকম্পের কারণে সাওকি জেলার দেওয়াহ গুল ও নূর গুল জেলার মাজার দারার সড়ক ভূমিধসে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে উদ্ধারকর্মীদের দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, ‘জীবন বাঁচাতে সব ধরনের উপলব্ধ সম্পদ ব্যবহার করা হবে।’
আফগান জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফাত জামান জানিয়েছেন, যেহেতু ভূমিকম্পটি একটি প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় আঘাত হেনেছে, তাই মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এবং অবকাঠামোর অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতে সময় লাগবে।
তিনি বলেন, আমরা একটি বিশাল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষকে সাহায্য করার জন্য একত্রিত হয়েছি।
আফগানিস্তান সব সময়ই ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকে, কারণ এটি বেশ কয়েকটি ফল্ট লাইনের উপরে অবস্থিত- যেখানে ভারতীয় এবং ইউরেশিয়ান প্লেটগুলি মিলিত হয়। এছাড়া পূর্ব আফগানিস্তানের পাহাড়ী ভূখণ্ডও ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকে, যার ফলে জরুরি পরিষেবাগুলির জন্য উদ্ধার কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।