।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে তার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
সোমবার ৩১ মার্চ এক ভিডিও বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তারা অবশ্যই একটি শক্তিশালী পাল্টা আক্রমণের মুখোমুখি হবে।
তেহরান থেকে এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
উল্লেখ্য, গতকাল রবিবার ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে একটি চুক্তিতে না আসে তবে বোমা হামলা ও দ্বিতীয় পর্যায়ে শুল্ক আরোপ করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ হুমকির পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলেন।
খামেনি আরও বলেছেন, ফিলিস্তিন দখলদার ওই অপরাধী চক্রের প্রতি আমেরিকার অব্যাহত সহায়তা ও সমর্থনের কারণেই এইসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। তিনি ইসরায়েলি শাসন ব্যবস্থাকে এ অঞ্চলে উপনিবেশবাদীদের একটি প্রক্সি শক্তি বলে অভিহিত করেছেন।
প্রসংগত, দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে পরমাণু চুক্তি চাইছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। এজন্য আলোচনা শুরু করতে সম্প্রতি খামেনিকে চিঠি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিতে পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই মাস সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। অন্যথায় ইরানে হামলা চালানো হবে বলে হুমকিও দেয়া হয়েছে।
তখনও সেই হুমকির জবাব দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। শুক্রবার ২১ মার্চ তেহরানের ইমাম খোমেনি কমপ্লেক্সে এক সভায় খামেনি বলেছিলেন, তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) ও অন্যদের জানা উচিত যে, যদি তারা ইরানের কোনো ক্ষতি করে, তারা কষে চড় খাবে।
খামেনি আরও বলেন, শত্রুরা ইরানিদের ইসলামি শিক্ষা থেকে দূরে রাখার জন্য একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালাচ্ছে, কিন্তু কোন লাভ হয়নি। তাদের ইরানি জাতির বিরুদ্ধে কোনো খারাপ কাজ করা থেকে বিরত থাকা উচিত, অন্যথায় তারা ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করবে।
উল্লেখ্য, ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে এবং সম্প্রতি আবারও নিজেদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, তারা কখনও পারমাণবিক বোমা তৈরির উদ্যোগ নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও নেবে না। তবে ট্রাম্পের কঠোর মনোভাবের কারণে দেশটির কিছু কঠোরপন্থি নেতা আত্মরক্ষায় পারমাণবিক বোমা তৈরির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।