।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানের হামলায় জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে দুই সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার ১৭ জুলাই এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় আহত আরও চার মার্কিন সেনাকে চিকিৎসার জন্য জর্ডানের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তারা চিকিৎসা শেষে ছাড়া পেয়েছেন। এছাড়া সামান্য আহত অন্য সেনারা ইতোমধ্যে দায়িত্বে ফিরে গেছেন।
নিহত সেনাদের পরিচয় কিংবা হামলার নির্দিষ্ট স্থান প্রকাশ করেনি সেন্টকম। পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানো পর্যন্ত এ তথ্য গোপন রাখা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
এ হামলার জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শনিবার রাতেই টানা অষ্টম দিনের মতো ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
হামলার আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, সংঘাত বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করলে ওয়াশিংটনকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
সেন্টকম জানায়, এসব হামলার লক্ষ্য হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) দ্রুত শাস্তি দেওয়া।
এর আগে জুনে যুদ্ধবিরতির একটি প্রাথমিক সমঝোতা হলেও তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাতিল হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ইরানের ওপর বন্দর অবরোধ আরোপ এবং ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছে।
শনিবার রাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক লিখিত বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের কাছে “ভুলে না যাওয়ার মতো শিক্ষা” অপেক্ষা করছে।
অন্যদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ইরানের ছোড়া ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক এই ঘটনায় চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে নিখোঁজ এক মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলটকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা রইল। তাঁদের এই আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাতে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে অন্তত দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। তবে এ দাবির বিষয়ে সেন্টকম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। এতে পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখার এবং সম্ভাব্য আকস্মিক উত্তেজনার জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানের মেহের নিউজ জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকার কাছে এই হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে হামলায় কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এক মাস আগে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেঙে যায়। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর হামলা জোরদার করেছে। এতে দুই দেশের মধ্যে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।
ইরানের বিভিন্ন সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং অন্যান্য অবকাঠামোতে মার্কিন হামলার পর শনিবার পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। ধারণা করা হচ্ছে, তারা জর্ডানের পাশাপাশি সৌদি আরব এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য মিত্রদেশগুলো লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেন, অন্তর্বর্তী চুক্তি বারবার লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে যে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের “কোনো মূল্য বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন শত্রুরা এখন সংঘাত বাড়িয়ে তুলতে চাইছে। এর ফলে তাদের আরও চড়া মূল্য দিতে হবে এবং আরও বেশি অপমানিত হতে হবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, “ইরানের বীর জাতি এবং প্রতিরোধ ফ্রন্ট এমন এক জবাব দিতে পারে, যা তারা ভুলতে পারবে না।
তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।