Breaking News:


শিরোনাম :
ইসি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্তরায় হতে পারে : মির্জা ফখরুল ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাদেশ চূড়ান্ত জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ২ দিনের কর্মসূচি গণভোটে সরকারের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে থাকার কারণ জানাল প্রেস উইং ২০২৬ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: যুক্তরাষ্ট্রকে ২১ রানে হারিয়ে বাছাইয়ে দারুণ শুরু বাংলাদেশের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত তিন ইস্যুতে ইসির সামনে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি নানক-তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ই-ভিসা ও মোবাইল অ্যাপ চালু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে শাসালেন রুমিন ফারহানা, ভিডিও ভাইরাল

কুষ্টিয়ায় মা-বাবার কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ফরিদা পারভীন

  • আপলোড টাইম : ১০:৪২ এএম, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২২৪ Time View
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
কুষ্টিয়া শহরের পৌর গোরস্থানে মা-বাবার কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন লোক সংগীতের বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীন।

রবিবার ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় পৌর গোরস্তানে মা-বাবার কবরে তাকে দাফন করা হয়েছে।

এর আগে রাত ৮টা ২৩ মিনিটে ফরিদা পারভীনের মরদেহ কুষ্টিয়া পৌঁছায়। এরপর জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। তার লাশবাহী অ্যাম্বুল্যান্স কুষ্টিয়া পৌঁছলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

লালন সম্রাজ্ঞী ফরিদার ভক্ত, সংগীত শিল্পী, পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের শোকে ওই এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তার মরদেহ দেখতে বিভিন্ন এলাকার থেকে অসংখ্য মানুষ ছুটে আসে।

লালন সম্রাজ্ঞী খ্যাত ফরিদা পারভীন গতকাল শনিবার ১৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্বামী এবং চার সন্তান রেখে গেছেন।

ফরিদা পারভীনের মৃত্যুর খবরে শিল্পী, কলাকুশলীসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

পরদিন সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শিল্পীর মরদেহ সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। সেখানে শ্রদ্ধা জানানো শেষে শিল্পীর মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে। সেখানে জানাজা শেষে মরদেহ কুষ্টিয়াতে নিয়ে আসা হয়।  

জানাজায় অংশ নিয়ে ফরিদা পারভীনের ছেলে ইমাম নাহিল সুমন বলেন, ‘মা সবসময় কুষ্টিয়ার কথা বলতেন। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার বাবা-মায়ের কবরে দাফন করা হলো।’

জানাজায় এসেছিলেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘ফরিদা পারভীন একটা ধারা তৈরি করে দিয়েছেন। যেই ধারা থেকে আমরা গড়ে উঠেছি।’

‘কুষ্টিয়াকে সত্যিকার অর্থে আমরা সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এটা হবে উপমহাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক নগরী। সেই ভিত্তিটা ফরিদা পারভীন তৈরি করে গেছেন,’ বলেন তিনি।

১৯৫৪ সালে ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। ১৪ বছর বয়সে তার পেশাদার সংগীতজীবন শুরু হয়। পারিবারিক সূত্রেই গানের ভুবনে আসা। তার দাদীও গান গাইতেন, পছন্দ করতেন বাবাও।

নজরুলগীতি, দেশাত্মবোধক নানা ধরনের গান করলেও শিল্পীজীবনে পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন মূলত লালনের গান গেয়ে। স্বাধীনতার পর কুষ্টিয়ার দোলপূর্ণিমার মহাসমাবেশে প্রথমবারের মতো লালনের গান পরিবেশন করেন ফরিদা পারভীন। শুরুতে অনীহা থাকলেও বাবার উৎসাহে মকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে লালনের গান শেখা শুরু করেন। এরপর খোদা বক্স সাঁই, করিম সাঁই, ব্রজেন দাসসহ গুরু পরম্পরার সাধকদের কাছে তালিম নিয়ে লালনের গানকে তিনি কণ্ঠে ধারণ করেন।

এরপর লালনের গান ফরিদা পারভীন দেশ-বিদেশে বা বিশ্বমঞ্চে ছড়িয়ে দিয়েছেন। জাপান, সুইডেন, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে তার কণ্ঠে বেজেছে লালনের দর্শন।

বাবার চাকরির সুবাদে দীর্ঘদিন কুষ্টিয়া শহরে ছিলেন ফরিদা। কুষ্টিয়ার মীর মশাররফ হোসেন বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। ১৯৭৪ সালে কুষ্টিয়া গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসি এবং একই কলেজ থেকে স্নাতক। ওই শহরেই দীর্ঘদিন তিনি চর্চা করেছেন লালনগীতির।

কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীন ১৯৫৪ সালে ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালে ১৪ বছর বয়সে তার পেশাদার সংগীতজীবন শুরু হয়। এরপর গানে গানে তিনি কাটিয়েছেন ৫৫ বছর।

সংগীতে অবদানের জন্য ফরিদা পারভীন ১৯৮৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন। অন্ধ প্রেম চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দেওয়ার জন্য ১৯৯৩ সালে তিনি সেরা প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৮ সালে তিনি ফুকুওয়াকা এশীয় সাংস্কৃতিক পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস ও অনন্যা শীর্ষ দশ পুরস্কার পেয়েছেন।

লালনের গানের বাণী ও সুরকে দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে ফরিদা পারভীনের অবদান সর্বজনস্বীকৃত। শুরুতে নজরুল সংগীত ও আধুনিক গান দিয়ে ফরিদা পারভীনের যাত্রা শুরু হয়। তবে তার সংগীত জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে লালন সাঁইয়ের গান গেয়ে। বাংলাদেশের লালন সংগীতের সঙ্গে তার নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech