।।বিকে রিপোর্ট।।
রাজধানীর উপকণ্ঠে পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিভিশন সেন্টারে চলছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা (ডিআইটিএফ)।৩ জানুয়ারী উদ্বোধনের পর প্রথম ছুটির দিনে বেশ জমে উঠেছে মেলা।
শুক্রবার ৯ জানুয়ারি মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। জুমার নামাজের পর থেকেই জনস্রোতে মেলা প্রাঙ্গণে ঢল নামে যেন হাজারও লোকের।
ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ বা বন্ধুদের নিয়ে এসেছেন মেলায়।ক্রেতা-দর্শনার্থীর আনাগোনায় জমাজমাট বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণ।
ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের বিপুল আগমনে বিক্রেতা খুশি। ছুটির দিনগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই উপচেপড়া ভিড় থাকে মেলা প্রাঙ্গণে। বেচা-বিক্রিও বেশ জমে ওঠে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন অফার ও পণ্য ছাড় দিচ্ছেন তারা। জেলখানার কারা বন্ধুদের হাতে তৈরি হস্তশিল্পের পণ্যসামগ্রী পেয়ে খুশি ক্রেতারা।
দর্শণার্থীদের কারও আকর্ষণ ছিল ঘর সাজানো সামগ্রী ঘিরে, কারও আবার নিজেকে সাজানোর উপকরণের দিকে। এসব দর্শণার্থী ও ক্রেতার পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ডিআইটিএফ প্রাঙ্গণ। তরুণ, বয়ষ্কদের পাশাপাশি বাদ যায়নি শিশুরাও।
স্টলে স্টলে ঘুরে নানা পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। কেউবা মেতেছেন আড্ডায়, তুলছেন ছবি। কেউ খুঁজছেন তৈজসপত্র। কারও ব্যস্ততা ঘরসজ্জার পণ্য খুঁজতে। অনেকে আবার পছন্দের ফার্নিচার কিনছেন সাধ আর সাধ্যের মধ্যে। কারও কারও নজর ছাড়ের দিকে। তাই ছুটছেন দোকান থেকে দোকানে।
মেলা কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রেখেছেন নয় শতাধিক পুলিশ ও আনসার সদস্য।
মেলার আকর্ষণ হিসেবে জুলাই আন্দোলন, ৫২ ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে তৈরি ‘বাংলাদেশ স্কয়ার’-এ ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে মেলায় শিশু বিনোদন কেন্দ্রে প্যাডেল বোট, স্লিপার, হেলিকপ্টার, নাগরদোলা, নৌকা, ট্রেনসহ বিভিন্ন রাইতে চড়ে আনন্দ নিচ্ছেন শিশুরা। হাজী বিরানি, মিঠাই, ঝটপট, তুর্কি রেস্টুরেন্ট, টেস্টি ট্রিট, ব্যাকেটসহ নানা খাবার স্টলে ভিড় করছেন ভোজনপ্রেমী দর্শনার্থীরা।
এ ছাড়া আরএফএল, দুরন্ত বাইসাইকেল, প্রাণ কোম্পানি, ডাচ বাংলা সুট সাফারি, থ্রি পিস, ঢাকাই জামদানি, শীতের চাদর, জুতা, গৃহস্থালিত নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী, মোটরসাইকেল, স্কুটি, নিত্যপ্রয়োজনীয় অ্যালুমিনিয়াম তৈজসপত্রসহ প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলোতে সাজানো নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে।
মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা বলছেন, খোলামেলা পরিবেশ হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে ঘুরে পণ্য দেখছেন ও কিনছেন ক্রেতারা। গতবারের তুলনায় এবার মেলায় পণ্যসামগ্রীর মান অনেকটা ভালো বলে জানিয়েছেন ক্রেতা এবং দর্শনার্থীরা।
বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণ জুড়ে ৩২৪টি স্টল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।
এবারের মেলায় ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার মোট ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ গ্রহণ করেছে। ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
এ বছর মেলার প্রবেশমূল্য ধরা হয়েছে বড়দের জনপ্রতি ৫০ টাকা এবং শিশুদের ২৫ টাকা। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধীরা ও জুলাই আহতরা তাদের কার্ড প্রদর্শনপূর্বক বিনামুল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন।