।।বিকে রিপোর্ট।।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে পারে তাহলে জনমানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রবিবার ২৫ জানুয়ারি দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দানকালে এ কথা বলেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি অতীতে প্রমাণ করেছে, একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সম্ভব কঠোরহস্তে আইনশৃঙ্খলা এবং—দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যেকোনো মূল্যে আগামী বিএনপি সরকার দুর্নীতির ও অপরাধের টুঁটি চেপে ধরবে— এই দুটি হচ্ছে আমাদের কমিটমেন্ট এই দেশের মানুষের কাছে।
কারণ বিএনপি সরকার অতীতেও প্রমাণ করেছে ’৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যেই সরকার ছিল, তারা দুর্নীতিতে দেশকে নিচের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। ২০০১ সালে যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আপনাদের রায়ে দেশের দায়িত্ব পান, তখন ধীরে ধীরে ধীরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে দেশকে বের করে নিয়ে এসেছেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, অতীতে তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় যারা অপরাধ–অপকর্ম করেছে তাদের ছাড় দেওয়া হয়নি। এমনকি দলীয় কেউ হলেও ছাড় দেয়নি বিএনপি সরকার। এ সময় তারেক রহমান উল্লেখ করেন, জনগণের ভোটে বিএনপি আবারও ক্ষমতায় গেলে কঠোরহস্তে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করবে।
তিনি বলেন, আজকে আমি আপনাদেরসহ এখানে হাজার-লক্ষ মানুষের সামনে পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই—আমরা যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, সেসব পরিকল্পনার মধ্যে কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বা দুর্নীতির মাধ্যমে সেগুলোকে বাধাগ্রস্ত করেন; তাদেরকে কোনো ছাড় আমরা দেব না ইনশাআল্লাহ।
প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ সময় এসেছে পরিবর্তনের। এই পরিবর্তনকে যদি সত্যিকারভাবে মিনিংফুল পরিবর্তন করতে হয়, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হয়; তাহলে আমাদের সকলকে আজ ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দুর্নীতি মোকাবিলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে কোনো পরিকল্পনায় কাজে দেবে না বলে মনে করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি—সব করতে পারে। প্রিয় ভাই-বোনেরা, বিগত সময় যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন, আপনারা দেখেছেন যেই হোক না কেন এমনকি আমাদের দলের অনেক লোক—যারা কোনো অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়িত করেছে; আমরা তাদেরকেও ছাড় দেইনি। আজ এই দেশের জনগণ, এই দেশের মানুষ যদি বিএনপির পাশে থাকে- ইনশাআল্লাহ আগামী দিনেও আমরা একইভাবে কঠোর হস্তে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে নিয়ন্ত্রণ করব; যাতে দেশের সাধারণ মানুষ খেটে খাওয়া মানুষ যাতে করে নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।
দুই দশক বাদে চট্টগ্রামে জনসভায় বক্তৃতা করলেন তারেক রহমান। এর আগে ২০০৫ সালের ৬ মে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে জনসভা করেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
এবার দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচনি প্রচার যাত্রার দ্বিতীয় পর্ব শুরু করলেন চট্টগ্রাম থেকে। গত বৃহস্পতিবার সিলেটে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় জনসভা করে নির্বাচনি যাত্রা করেন তারেক রহমান।
সকাল থেকে পলোগ্রাউন্ড মাঠে খণ্ড খণ্ড মিছিল আসতে শুরু করে। সকাল ১০টার মধ্যে পুরো মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ। পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘ইয়ুথ পলিসি টকে’ বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান। সেখান থেকে তার গাড়ি বহর লালখান বাজার মোড় হয়ে জনতার ভিড় পেরিয়ে সমাবেশস্থলে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের সমাবেশ শেষে বিকেল ৪টায় ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে, সাড়ে ৫টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে, সন্ধ্যা ৭টায় সোয়াগাজী ডিগবাজির মাঠে, সাড়ে ৭টায় দাউদকান্দি ঈদগাঁ মাঠে এবং রাত সাড়ে ১১টায় কাঁচপুর বালুরমাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।