Breaking News:


জামায়াত জোট থেকে বেরিয়ে গেলো ইসলামী আন্দোলন- ২৬৮ আসনে একক নির্বাচনের ঘোষনা

  • ০৮:২৫ পিএম, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে ২৬৮ আসনে নির্বাচন করবে বলে জানালেন চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলন ২৭০ আসনে প্রার্থী দেয়। এর মধ্যে দুজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। বাকিদের এখন ভোটের মাঠে থাকতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের আসন বন্টন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই দুই দলের টানাপোড়েন চলছিল। আসন বন্টনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে শেষ পর্যন্ত আর ঐকমত্য হয়নি তাদের।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটে না থাকার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৬৮ আসনে এককভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলটির প্রার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, জোটের অন্তর্ভুক্ত একটি দলের কর্মকাণ্ড বারবার আমাদের দলের আত্মসম্মানবোধে আঘাত করেছে। কারো অনুগ্রহের আসন নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না। আমাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় থাকবে। আমাদের দলের সব নেতাকর্মীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, শালীনতাবোধ বজায় রাখার জন্য।

জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানেরও সমালোচনা করে তিনি বলেন, আদর্শিক ও নৈতিকভাবে আমরা কোনো সংগঠনের চেয়ে দুর্বল নই। জামায়াতে ইসলামী আগামীতে ক্ষমতায় গেলে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করবে না বলে জানিয়েছে। এই অবস্থায় আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে জোট করেছিলাম, তা কম্প্রোমাইজ হয়ে যায়। তাই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছি।

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র আরও বলেন, জামায়াত আমির বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেছেন ‘আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বেগম জিয়ার ঐক্যের পাটাতনে দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করবেন’। এমন বক্তব্য আমাদেরকে শঙ্কিত করেছে, আগামীতে পাতানো নির্বাচন হবে। আমরা কোনো পাতানো নির্বাচনে কারো সমঝোতার অংশ হতে চাই না।

গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, আমাদের যেহেতু ২৬৮টি আসনে প্রার্থী আছে, বাকি ৩২টা আসনে আমরা সমর্থন দেব। সেখানে কাকে সমর্থন দেব সেটা আমরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পরে সিদ্ধান্ত নেব। আমাদের নীতি, আদর্শ ও লক্ষ্যের সঙ্গে যাদের মিল হবে তাদেরকে আমরা ইনশাআল্লাহ সমর্থন দেব।

ইসলামি ভোটের ‘এক বাক্স নীতি’র আলাপ তুলেছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। পরে জামায়াতে ইসলামীসহ মোট আট দল নিয়ে একটি জোট হয়। এ জোটের অন্যতম শরিক ছিল ইসলামী আন্দোলন। পরে এ জোটে এনসিপি, বিডিপি ও এবি পার্টিও যোগ দেয়। তবে এ জোটে জামায়াতের কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে ইসলামী আন্দোলন। গত বুধবার জোটের আসন সমঝোতার ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়ার কথা ছিল। ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় তা ঘোষণা দিতে পারেনি জোটটি। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসলামী আন্দোলনকে রেখেই ২৫৩ আসনে জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।

এদিকে জামায়াত জোটে না থাকার কারণ উল্লেখ করে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ এক নেতা জানান, ইসলামপন্থি সমমনা দলগুলো নিয়েই নির্বাচনী জোট গঠনের কথা ছিল। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি জামায়াত এখানে একক কর্তৃত্ব দেখাচ্ছে। শুরুতে ইসলামী জোটের কথা বলা হলেও সেখানে অযাচিতভাবে অনেক দলকে ডেকে আনা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ইসলামী আন্দোলনের ওই শীর্ষ নেতা জানান, জোটে এনসিপিকে গুরুত্ব দেওয়ায় ক্ষুব্ধ তারা। নতুন এই দলটি কেন ৩০টি আসন দেওয়া হচ্ছে, এ নিয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের আপত্তি কানে নেননি জামায়াত নেতারা। জোটে না থাকার এটিও অন্যতম কারণ।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech