।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইরানকে উদ্দেশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম অপমানজনক ও অকথ্য ভাষায় দেওয়া এক হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের এমন আচরণে উদ্বেগ প্রকাশ করে অনেক মার্কিন রাজনীতিক এখন তাঁর ‘মানসিক সুস্থতা’ নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানান। অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় তিনি লেখেন, ‘হারামির দল, হরমুজ প্রণালি খুলে দাও। নাহলে নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হবে।—শুধু দেখো কী হয়।’
এখানেই শেষ নয়, ইরানের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোতে আরও বড় হামলার হুমকি দিয়ে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানে আগামীকাল মঙ্গলবার হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের দিন। এদিন এমন কিছু ঘটবে, যা এর আগে কেউ কোনো দিন দেখেনি। পোস্টের শেষে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘সকল প্রশংসা আল্লাহর’ কথাটিও যোগ করেন।
আগামীকাল সন্ধ্যার মধ্যে ইরানকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা শেষ হচ্ছে। তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই সমুদ্রপথটি গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে কার্যত বন্ধ রয়েছে।
ট্রাম্পের এই আগ্রাসী বার্তার কড়া জবাব দিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মার্ফি। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ট্রাম্প আগামী সপ্তাহে যে বড় ধরনের যুদ্ধাপরাধ করতে যাচ্ছেন, তা প্রকাশ্যেই সাংবাদিকদের বলে বেড়াচ্ছেন। রিপাবলিকান নেতাদের উচিত তাকে এখনই থামানো।’
মার্ফি সতর্ক করে বলেন, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দিয়ে হাজার হাজার নিরীহ ইরানিকে হত্যা করলেই হরমুজ প্রণালি খুলবে না। ট্রাম্পের উপদেষ্টারা তাকে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার যে কুবুদ্ধি দিচ্ছেন, তার মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানে জাতীয় আতঙ্ক তৈরি করে সরকার পতন ঘটানো। এটি স্পষ্টতই একটি যুদ্ধাপরাধ।
অন্যান্য শীর্ষ মার্কিন রাজনীতিকরাও ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছেন। ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক শুমার ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘উন্মাদের প্রলাপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
প্রবীণ সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তাকে বলেছেন ‘মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’। কংগ্রেসওম্যান ইয়াসমিন আনসারি ট্রাম্পকে ‘ভয়ংকর পাগল’ উল্লেখ করে তাকে যুক্তরাষ্ট্র ও পুরো বিশ্বের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ বলে মন্তব্য করেছেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এখন আগামীকাল সন্ধ্যার মধ্যে ইরান এ পথটি আবার চালু না করলে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ কাজ করছে।