Breaking News:


শিরোনাম :
ইসলামাবাদ আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে, কিন্তু কূটনীতি কখনো শেষ হয় না: ইরানি মুখপাত্র ঢাকা সহ চার সিটিতে হামের টিকা দেওয়া শুরু নদীতে ফুল ভাসিয়ে ঐতিহ্যবাহী বিজু উৎসব শুরু সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন : দ্বিতীয় দিনে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন ৭৩ জন ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরও সমঝোতা হয়নি : ভ্যান্স এডিবির ১১৬ মিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন : এনসিসিতে পানি, ড্রেনেজ ও সবুজায়নে বড় প্রকল্প পাহাড়ে কিংবা সমতলে, বাংলাদেশি হিসেবে প্রত্যেকের সমান অধিকার শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে দিনের তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় ত্রাণমন্ত্রী, এভারকেয়ারে ভর্তি প্রধানমন্ত্রী ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন আগামী ১৪ এপ্রিল

ঢাকা সহ চার সিটিতে হামের টিকা দেওয়া শুরু

  • ১১:৪২ এএম, রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
হামের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে ঢাকাসহ চার সিটি করপোরেশনে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই চার সিটি হলো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল।

রবিবার ১২ এপ্রিল থেকে টিকাদান কর্মসূচী শুরু হয়। এ কর্মসূচির আওতায় ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৭ শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকাদান এ কার্যক্রম চলবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১১ মে পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ, ময়মনসিংহ এবং বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায়। ঢাকা দক্ষিণে ৬ লাখ ৪৭ হাজার, উত্তর সিটিতে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৯৮, ময়মনসিংহে ৬২ হাজার ও বরিশালে ৪৫ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

এদিকে, দেশব্যাপী আগামী ২০ এপ্রিল থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের ভুলের কারণে বর্তমানে হামের প্রভাব দেশব্যাপী বৃদ্ধি পেয়েছে। ঠিকমতো টিকাদান কর্মসূচি চলমান থাকলে এ সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো না। বর্তমানে আমরা ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের জন্য দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রথম ডোজ নেওয়ার পর চার সপ্তাহ পূর্ণ না হলে হামের টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম প্রকৃপক্ষে একটি মারাত্মক ভাইরাল ডিজিজ। মায়াসলেস ভাইরাস নামের একটি ভাইরাস দ্বারা এটি ছড়ায়। টিকার মাধ্যমে এ ভাইরাসটি বহু বছর ধরে আমরা প্রতিরোধ করে আসছি। এবার একটু ব্যত্যয় ঘটতে দেখা গেল। যেখানে আগে হাম হতোই না, সেখানে এবার মহামারি আকারে দেখা গেল।

তিনি আরও বলেন, এই ভাইরাসটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে, একজন শিশু আক্রান্ত হলে অন্তত ১৬ থেকে ১৭ জন পর্যন্ত শিশু আক্রান্ত হতে পারে। হামে যদিও সরাসরি মৃত্যু ঘটে না। কিন্তু হাম প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় তার ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাচ্চা মারা যেতে পারে। তার মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি ভিটামিন এ কমিয়ে দেয়।

ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম যেহেতু সংক্রমণ সুতরাং এখানে একটি কমন লক্ষণ হলো গলাব্যথা, হাঁচি, কাশি হতে পারে। এরপরে গায়ে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে যদি জ্বর আসে শরীরের র‌্যাশ দেখা দেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে এটি হাম।

তিনি বলেন, যেহেতু এটি ভাইরাল ডিজিজ, কাজেই প্রাতিষ্ঠানিক কোনো চিকিৎসা নেই। তবে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দিতে হয়। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল কিংবা যেসব ব্যবস্থা নিলে জ্বর কমবে, তা নিতে হবে। হামের প্রভাবে নিউমোনিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টেশন দিতে হবে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে শনিবার সকাল ৮টার আগে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৮৮৮ জন। নিশ্চিত হাম রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৮০ জন। একই সময়ে হাম ও এ রোগের উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৮৫। নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ৪৮৯। সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯ হাজার ৪৬৩ জন। এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১৪৫ জনের। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৯ জনে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech