Breaking News:


শিরোনাম :
একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব ঈদের ছুটি কাটিয়ে রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ নিউইয়র্কে অবতরণের সময় রানওয়েতে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ বিমানের স্বাধীনতা দিবসে দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির ঠাকুরগাঁওয়ে বাজারে পেট্রোল ৩৫০ টাকা,পাম্পে তেল নেই হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে : রেলপথ প্রতিমন্ত্রী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় ইসলামী আন্দোলনের শোক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে: অর্থমন্ত্রী

দেশ থেকে ৭৫% অর্থ পাচার হয় বাণিজ্যের আড়ালে

  • ১১:০৮ এএম, বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
দেশ থেকে পাচার হওয়া মোট অর্থের প্রায় ৭৫ শতাংশই পাচার হয় বাণিজ্যর মাধ্যমে। আমদানি ও রপ্তানির সময় মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এই বিপুল অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়।

মঙ্গলবার ২২ জুলাই বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থাপিত গবেষণাপত্রে এসব তথ্য জানানো হয়।

গবেষণাপত্রে আরো বলা হয়, দেশ থেকে প্রতিবছরই অর্থপাচার বাড়ছে, তাতে আরো ভঙ্গুর হয়ে ওঠছে অর্থনীতি। এই অর্থপাচার কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। বলা হয়, দেশ থেকে পাচার হওয়া মোট অর্থের প্রায় ৭৫ শতাংশই পাচার হয় বাণিজ্যর মাধ্যমে। আমদানি ও রপ্তানির সময় মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এই বিপুল অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়।

২০১৫ সালের অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন সংশোধনের পর মোট ৯৫টি টাকা পাচারের ঘটনা নিয়ে কাজ করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এর সবই করা হয়েছে বাণিজ্যের মাধ্যমে, যার আর্থিক পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২০১ কোটি টাকা।

বিআইবিএমের তিন শিক্ষক, বেসরকারি ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) এক কর্মকর্তা মিলে ৩৭টি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রশ্নোত্তরের তথ্য দিয়ে গবেষণাপত্রটি তৈরি করা হয়। গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের শিক্ষক আহসান হাবিব।

আহসান হাবিব বলেন, অর্থ পাচারে অপরাধীরা বাণিজ্য চ্যানেলটি ব্যবহার করে, তার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমত, বাণিজ্যর মাধ্যমে বড় পরিমাণের অর্থ নেওয়া যায়। অন্য যেকোনো মাধ্যমের চেয়ে বাণিজ্যের মাধ্যমে অনেক বেশি পরিমাণ অর্থ লেনদেন করা সম্ভব হয়। ফলে এই মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাঠানোর আগ্রহ বেশি থাকে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার বলেন, কম দাম দেখিয়ে আমদানি ও রপ্তানির মাধ্যমেও অর্থ পাচার হয়; এটাও বাণিজ্য অর্থায়নের মধ্যে পড়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাণিজ্য এমনভাবে করা হয় যে বাইরের দৃষ্টিতে সব ঠিকঠাক মনে হয়। তবে ভেতরে অন্য কিছু লুকানো থাকে। অনেক সময় চোখে ধুলা দেওয়ার মতো অবস্থা হয়। বলা হয় এক কথা, আসলে ভেতরে অন্য কিছু চলছে। তাই ভালোভাবে দেখা জরুরি।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় আহসান হাবিব বলেন, ‘২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমদানি ও রপ্তানির সময় মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে ৮.২৭ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা দেশের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ।’

এ সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরের তথ্য-উপাত্তও এই গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বলা হয়, ২০২৪ সালে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) তথ্য মতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বাণিজ্যের আড়ালে বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা জিডিপির ৩.৪ শতাংশ। এই অর্থপাচার মূলত বস্ত্র, ভোগ্যপণ্য ও জ্বালানি পণ্য আমদানিতে হয়।

গবেষণায় প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, দেশে বাণিজ্যভিত্তিক অর্থপাচার মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সুরক্ষাকাঠামোতে দুর্বলতা আছে। জরিপে অংশ নেওয়া শতভাগ ব্যাংক জানায়, নিষেধাজ্ঞা তালিকা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া, অর্থাৎ আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা যাচাইয়ের সক্ষমতা রয়েছে। ৯৫ শতাংশ ব্যাংকের রয়েছে সনাতনি তালিকা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। ১০০ শতাংশ ব্যাংকের লেনদেনের নিজস্ব তথ্যভাণ্ডার রয়েছে। আমদানি-রপ্তানি মূল্য যাচাইয়ের তথ্যভাণ্ডারে সুবিধা নিতে পারে ৫০ শতাংশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার বলেন, ‘যারা বিদেশে টাকা পাচার করেন, তারা কৌশলে কাজটি করেন। শুধু নিয়ম মেনে চললেই তাদের ধরা যাবে না। বুদ্ধি খাটাতে হয়। তাদের ধরতে খুব সতর্ক থাকতে হয়।’

গোলটেবিল বৈঠকে আরো বক্তব্য দেন বিআইবিএমের এ কে গঙ্গোপাধ্যায় চেয়ার অধ্যাপক ফারুক এম আহমেদ, বিআইবিএমের মহাপরিচালক আবদুল হাকিম, বিআইবিএমের শিক্ষক আলী হোসেইন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক এ কে এম রেজাউল করিম, বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইউ) পরিচালক মোস্তাকুর রহমান প্রমুখ।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech