।।বিকে রিপোর্ট।।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা তাঁর মতবিনিময়সভায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেখে বেশ চটেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষে ‘বৃদ্ধাঙ্গুল’ দেখালেও কিছু করা হয় না উল্লেখ করে চটে যান তিনি।
শনিবার ১৭ জানুয়ারী বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামবাদ (গোগদ) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জুয়েল মিয়া নামে রুমিন ফারহানার এক সমর্থককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জানা যায়, গতকাল, নোয়াগাঁও ইসলামাবাদ গ্রামের লোকজন শনিবার দুপুরে রুমিন ফারহানার সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন করে। আয়োজনে কোনো ব্যানার বা মাইক ছিল না। রুমিন ফারহানা এ আয়োজনে হাজির হলে সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান উপস্থিত হন। রুমিন ফারহানাকে তিনি মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন।
তবে রুমিন ফারহানা বক্তব্য দিয়ে মঞ্চ থেকে নামেন। যাওয়ার সময় ম্যাজিস্ট্রেটকে দেখে বেশ ক্ষিপ্ত হন। ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে আচরণবিধি লঙ্ঘন করা নিয়ে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা বলেন, অন্যরা আপনাদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেও কিছু বলেন না। আমি শেষ বারের মতো আপনাকে সর্তক করে দিচ্ছি। আজ আমি ভদ্রতার সাথে কথা বলছি, পরবর্তীতে সেটা করব না।
এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে রুমিন ফারহানাকে বলতে শুনা যায়, ‘এক্সকিউজ মি স্যার, এক্সকিউজ মি স্যার, এক্সকিউজ মি স্যার। দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম আই ওয়ার্নিং ইউ।
এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বলতে শুনতে যায়, আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তো আমরা ব্যবস্থা নেব। তখন রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সব জায়গায় হচ্ছে।’ পাশের একজন বলেন, ‘আপনাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায় কিছু বলতে পারেন না।’
তখন রুমিন বৃদ্ধাঙ্গুল উঁচিয়ে বলেন, ‘এইরকম দেখায় আপনাদেরকে।
এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বলতে শোনা যায়, ‘কে এমন করে?’ প্রত্যুত্তরে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘খোঁজ নেন, প্রশাসনে বইসা আছেন। আমি যদি না বলি, এখান থেকে বাইর হইতে পারবেন না। এক্সকিউজ মি স্যার, দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম, আই ওয়ার্নিং ইউ।’ তখন ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আচরণবিধি ভঙ্গ হলে আমাদের তো আসতে হবেই।’ উত্তরে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সব জায়গাতেই হচ্ছে। আপনারা কিছুই করতে পারেন না।’ এ সময় রুমিন ফারহানার অনুসারীরা ‘ঠিক, ঠিক’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।
সবাইকে চুপ থাকতে বলে রুমিন বলেন, ‘আজকে শুনছি। আঙুল তুলে বলে গেলাম ভবিষ্যতে আর শুনব না। আমি যদি না বলি এখান থেকে বের হতে পারবেন না। বের হতে পারবেন না স্যার, মাথায় রাখবেন। আমি রুমিন ফারহানা, কোনো দল লাগে না।’
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে বিধায় ওনাকে (রুমিন ফারহানা) চলে যেতে বলা হয়। ওনি যাওয়ার সময় উত্তেজিত হয়ে পড়েন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে একজনকে জরিমানা করা হয়েছে।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আবুবকর সরকার বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি ২০২৫ এর ১৮ এর ধারায় একজনকে জরিমানা করা হয়।’
আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলমগীর খাঁর বিরুদ্ধে ১৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আচরণবিধি ভঙ্গের লিখিত অভিযোগ দেন রুমিন ফারহানা। এর পরদিন হাবিবুর রহমান এক সমাবেশে ওই অভিযোগকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখান।
উল্লেখ্য, সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে ছিলেন। কিন্তু আসনটিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে। দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় গত ৩০ ডিসেম্বর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।