।।বিকে রিপোর্ট।।
কোনো দ্বৈত নাগরিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
শনিবার ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকার বাংলামোটরে দলটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এসব কথা বলেন।
ইসির আপিল শুনানির শেষদিন রোববারকে ‘রেডলাইন’ আখ্যা দিয়ে দলটি বলছে, কোনো ‘ফাঁকফোকর দিয়ে’ দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপি পার করে দেওয়ার চেষ্টা হলে তারা আইনি লড়াইয়েও যাবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তাড়াহুড়া না করে ‘কিছুটা দেরি হলেও সময় নিয়ে’ নির্বাচন আয়োজন করার পরামর্শ দেন ইসিকে।
তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এনসিপির ‘অনেক আগেই’ রাজপথে নামার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছিলাম। প্রয়োজন হলে এখন আবার রাজপথে নামব। আমরা কোনোভাবেই একটা যাচ্ছেতাই নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ দেব না। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করাই থাকবে আমাদের মূল প্রাইরোরিটি।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি নাগরিককে নির্বাচন করতে দেবো না। কোনো ব্যাখ্যা বা এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে কমিশন তাদের কোনো সুযোগ দিলে আদালত ও রাজপথে লড়ব।
কোনো প্রার্থীর নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, আমরা দেখলাম, অনেকেই দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার পরেও নির্বাচন কমিশনে গিয়ে গুণ্ডামি করছেন; একেকজন ২০০-৩০০ লোক নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছেন এবং শত শত আইনজীবীকে নিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ করার জন্য।
নির্বাচন কমিশনও এ ধরনের প্রার্থীদের নানাভাবে পার করে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা।
নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া অনেক বিএনপি নেতারও সমালোচনা করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, বিএনপি নিজেদের গণতন্ত্রের ধারক-বাহক এবং অগ্রদূত বলে আসছে, কিন্তু তারা ‘১৮০ ডিগ্রি টার্ন নিয়ে’ গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, দেশের সংবিধানের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে।
আসিফের অভিযোগ, “যে ‘লুটেরা শ্রেণি’ লুট করে বিদেশে বাড়িঘর করেছে, সম্পদের পাহাড় গড়েছে, তারা আবারো জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য দেশে এসে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ‘পাঁয়তারা করছে’। আগামীকাল যদি আমরা দেখি, কোনো ঋণ খেলাপি বা কোনো দ্বৈত নাগরিকত্বধারী কেউ নির্বাচন করার যোগ্যতা পাচ্ছেন, সেটা যে শর্তেই হোক, যেই ইন্টারপ্রেটেশনের মধ্য দিয়েই হোক, আমরা সেটার বিরুদ্ধে রাজপথে নামব।
জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া আসিফ বলেন, আমরা কোনোভাবেই এই নির্বাচন কমিশনকে পূর্ববর্তী তিনটি নির্বাচন কমিশনের মত একটা দায়সারা নির্বাচন এবং একপাক্ষিক নির্বাচন বা সেটেলড নির্বাচন আয়োজন করার সুযোগ দিব না। এনসিপি তাদের জোট শরিকদেরকে নিয়ে বিষয়টি খুব সিরিয়াসলি ডিল করবে।
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, আজ বিএনপির ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আমাদের লিগ্যাল টিমের সদস্যদের ‘ব্লাডি সিটিজেন’ বলে গালি দিয়েছেন। তো আমরা এটাকে গালি হিসেবে নিচ্ছি না, আমরা মনে করি, আমরা ‘ব্লাডি সিটিজেন’। আমরা এই বাংলাদেশের ‘ব্লাডি নাগরিক’, কিন্তু আমরা ‘ব্লাডি ফরেইনার’ নই।
আপনাদের মতো ‘ব্লাডি ফরেইনারদের’ বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণের এবং জনপ্রতিনিধিত্ব করার কোনো অধিকার নেই। বাংলাদেশের একটা উদীয়মান দল হিসেবে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শক্তি হিসেবে আমরা কোনোভাবেই আপনাদের সেই সুযোগ দিব না।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এনসিপি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজপথে অনেক আগেই আন্দোলন করেছে। নির্বাচন কমিশন অবরোধও করা হয়েছিল। আমরা নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছিলাম। আবার প্রয়োজন হলে রাজপথে নামব। আমরা কোনোভাবেই একটা যাচ্ছেতাই নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ দিব না।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসির বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক দল আন্দোলনে যেতে পারে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আমাদের রাজনৈতিক দাবি জানাতেই পারি। নির্বাচন কমিশন যেমন স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সে যদি তার স্বাধীনতার অপব্যবহার করে, যৌক্তিকভাবেই আমাদের দাবি উত্থাপন করতে পারি। আমরা আগেও করেছি, ভবিষ্যতে করতেও পিছপা হব না।