Breaking News:


শিরোনাম :
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে মির্জা আব্বাস ফুরিয়ে আসছে ইন্টারসেপ্টর, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে ঝুঁকিতে ইসরায়েল বাহরাইনে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা কৃষক কার্ড – পহেলা বৈশাখে বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন- সাধারণ জিজ্ঞাসা ও উত্তর আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর জন্য অনলাইন সিস্টেম চালু  সৈয়দপুর পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন পাকিস্তানকে হারিয়ে রোমাঞ্চকর জয়ে সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে: বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা

পদ পেতে স্ত্রীকে তালাক দিলেন ছাত্রদল নেতা : পেলেন অব্যহতি পত্র

  • ১২:২৭ পিএম, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫

।।বিকে রিপোর্ট।।
স্ত্রীকে তালাক দিয়ে রাজনৈতিক পদ নেওয়ার অভিযোগে সরকারি বাঙলা কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব ফয়সাল রেজাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার ২১ এপ্রিল তাকে এ অব্যাহতি দেওয়া হয়। ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ফয়সাল রেজাকে সাময়িক অব্যাহতির কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি বাঙলা কলেজ শাখার সদস্যসচিব ফয়সাল রেজাকে সকল সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। একইসঙ্গে উক্ত কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক হাফিজুর রহমানকে বাঙলা কলেজ শাখা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির আজ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে শিখা নামে এক তরুণী ফয়সাল রেজার স্ত্রী দাবি করেন। এ সময় রেজা বিরুদ্ধে অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎসহ নানা হয়রানির অভিযোগও তোলেন ওই তরুণী।

তিনি ফয়সাল রেজার বিরুদ্ধে স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা, নির্যাতন, অর্থ আত্মসাৎ এবং গোপনে তালাক দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তার স্ত্রী শিখা।

সোমবার ২১ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ প্রকাশ করেন তিনি।

অভিয়োগে শিখা জানান, ২০২৩ সালের ২৮ মার্চ তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তিনি সংসারের পুরো খরচ একা বহন করতেন, কারণ ফয়সাল বেকার ছিলেন। এমনকি ফয়সাল তার বিদেশে থাকা ভাইদের কাছেও শিখার টাকায় অর্থ পাঠাতেন। একপর্যায়ে তাকে মালয়েশিয়ায় থাকা ফয়সালের ভাইয়ের জন্য তিন লাখ টাকাও দিতে হয়। টাকা না দিলে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো বলেও দাবি করেন শিখা।

তিনি বলেন, বিভিন্ন অজুহাতে ফয়সাল তার কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। ফয়সালের মা সুদে টাকা ধার করে শোধ করতে শিখাকেই চাপ দিতেন।

তিনি আরও বলেন, সে আমার আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার চুরি করেছে এবং আমার অফিস থেকে পাঁচ লাখ টাকা চুরি করেছে। প্রতিটি বিষয়ের প্রমাণ আমার কাছে আছে।

শিখা জানান, গত কোরবানির ঈদে ফয়সাল তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেন, পরে আরও ২৫ হাজার নিয়ে মার্কেট করেন। এরপর এক ঘটনা তাকে হতবাক করে—এক মেয়ে তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি কি ফয়সালের স্ত্রী? কারণ ফয়সাল সেই মেয়েকে বিয়ের জন্য তার পরিবার নিয়ে মেয়েটির বান্ধবীর বাড়ি গিয়েছিলেন।

শিখার ভাষায়, ৫ আগস্টের পর সে আমাকে এড়িয়ে চলে, তখন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল। এরপর হলে দখল নেয়, নেতা হয়ে যায়। আমি সমস্ত খরচ চালিয়েও তাকে পাশে রাখতে পারিনি। আমার সামাজিক অবস্থানও নষ্ট হয়েছে।

ঘটনার আরও ভয়াবহ দিক হলো, ৩১ আগস্ট এক প্রৌঢ় নারীর জন্মদিন উদযাপনের পর শিখা ছাত্রদলের কার্যালয়ে তাদের বিয়ের কাবিননামা ও লিখিত অভিযোগ জমা দেন। ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিষয়টি জানলেও পরবর্তীতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ দেওয়ার জেরে ফয়সাল ও তার অনুসারীরা শিখার অফিসে হামলা চালান এবং তাকে গোপনে তালাক দেন। তবে এক মাস পর সেই তালাকপত্র আবার প্রত্যাহার করে নেন ফয়সাল।

শিখা আরও জানান, এখন ফয়সাল ও তার সহযোগীরা তাকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন ও তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে শিখা বলেন, আমি এখন জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি ন্যায়বিচার চাই এবং নিজেকে সুরক্ষিত দেখতে চাই।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech