Breaking News:


শিরোনাম :
৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ইরানকে অস্ত্র না দিতে সি চিন পিংকে চিঠি ট্রাম্পের জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ২ বিলিয়ন ডলার বৈশ্বিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৫ ইউনিট সাবেক আওয়ামী মেয়র মনজুরের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ বিকল্প শ্রম বাজারের সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে : প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি সভা-প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল অংশগ্রহণের নির্দেশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে হামের প্রকোপ: লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন ১০৩ রোগী হরমুজে বিধ্বস্ত হলো ২৪ কোটি ডলারের মার্কিন ড্রোন ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ভ্যাট রিটার্ন দেওয়ার সুযোগ

পাঁচ দফা দাবিতে হেফাজতের মহাসমাবেশ: কোরআন সুন্নাহ বিরোধী প্রতিবেদন বাতিল করুন

  • ১২:৪৫ পিএম, শনিবার, ৩ মে, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
শেখ হাসিনার মতো ভুল করবেন না। ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো নীতি বাস্তবায়ন করার সাহস করবেন না। অবিলম্বে প্রতিবেদনসহ নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিল ঘোষণা করুন। শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করুন – বলেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতারা।

শনিবার ৩ মে নারী অধিকার সংস্কার বিষয়ক কমিশনের প্রস্তাব বাতিল, শাপলা ট্রাজেডি সহ আওয়ামী শাসনামলে সব গণহত্যার বিচারসহ পাঁচ দফা দাবিতে চলছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসমাবেশ।

আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ্ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া মহাসমাবেশের বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতারা এসব কথা বলেন।

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, সমাবেশকে কেন্দ্র করে ভোর থেকেই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। কানায় কানায় পরিপূর্ণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। মহাসমাবেশ সফল করতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের সব জেলা, উপজেলা থেকে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকেই অর্ধলক্ষাধিক নেতাকর্মী মহাসমাবেশে যোগ দিয়েছেন বলে জানান হেফাজতের নেতারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। মহাসমাবেশকে ঘিরে শাহবাগ, মতিঝিল, নীলক্ষেত, যাত্রাবাড়ী, কলাবাগান, ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর থেকে মিছিল আসছে। দোয়েল চত্বর, টিএসএসি, শাহবাগ, রমনা সংলগ্ন গেট দিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রবেশ করছেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

সমাবেশে যোগ দেয়া দলটির নেতাকর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’, ‘ইসলামের শত্রুরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ ইত্যাদি স্লোগান এবং বিভিন্ন ধরনের ব্যানার নিয়ে আসতে দেখা গেছে।

সকাল ৯টায় হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মহাসমাবেশ স্থলে পৌঁছান। শীর্ষ নেতারাসহ দেশ বরেণ্য উলামায়ে কেরাম মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখছেন। বক্তারা বলেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন দিতে প্রস্তুত। কিন্তু কোরআন সুন্নাহ বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করবে না।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে হেফাজতে ইসলামের বক্তারা বলেন, আপনারা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য কমিশন করেছেন, জুলাই আন্দোলনের গণহত্যার জন্য কমিশন করেছেন, ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছেন, কিন্তু মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত গণহত্যার বিচারের জন্য কেন তদন্ত কমিশন গঠন করলেন না?

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করা হলেও হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। এসব মামলা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন সম্পর্কে সমালোচনা করে হেফাজতে ইসলাম নেতারা বলেন, সরকার নারী বিষয়ক যে সংস্কার কমিশন গঠন করেছেন এর সদস্যরা নারী না পুরুষ তা বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু তারা যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তা কোরআন সুন্নাহ বিরোধী। তাদের সংস্কার প্রতিবেদন যদি পাস করা হয় তাহলে জীবন দিয়ে রুখে দেওয়া হবে। মার্চ টু ঢাকার কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে হেফাজতে ইসলাম।

মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেন, নির্যাতিত হলাম, জেল খাটলাম অথচ আমাদের মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন যে প্রতিবেদন দিয়েছে তা ১৮ কোটি মুসলমানের বিরুদ্ধে। তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

মহাসমাবেশ থেকে ফিলিস্তিন ও ভারতে ‘মুসলিম গণহত্যা ও নিপীড়ন বন্ধে’ সরকারকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। তবে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে অধিকাংশ বক্তার বক্তব্যে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন ও প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।

হেফাজতের পাঁচ দফা দাবি হলো-

১. ফ্যাসিবাদের আমলে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও গণহত্যার বিচার।

২. বহুত্ববাদের পরিবর্তে সংবিধানে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহাল।

৩. নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ও কমিশন বাতিল।

৪. ভারতের মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে উদ্যোগ ও ওয়াকফ আইন বাতিল।

৫. ফিলিস্তিন ও ভারতে ‘মুসলিম গণহত্যা ও নিপীড়ন বন্ধে’ সরকারকে ভূমিকা রাখতে হবে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মহাসমাবেশ স্থলে পৌঁছেছেন। মহাসমাবেশে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ্ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে হেফাজতের শীর্ষ নেতারাসহ দেশ বরেণ্য উলামায়ে কেরাম বক্তব্য রাখবেন।

উল্লেখ্য, ১২ বছর আগে ২০১৩ সালের পাঁচই মে ঢাকার শাপলা চত্বর এলাকায় মহাসমাবেশ করে প্রথম আলোচনায় উঠে এসেছিল হেফাজতে ইসলাম।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech