।।বিকে রিপোর্ট।।
সব সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবের সঙ্গে এখন থেকে মেয়াদি আমানতের বিপরীতেও দুই লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারী। পাশাপাশি আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মাসিকভিত্তিক মুনাফা তুলতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর এসব তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, পাঁচটি ব্যাংকের গ্রাহকদের লেনদেন পরিস্থিতি খুব শিগগিরই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এছাড়া রেমিট্যান্স ও সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে মুনাফা তাৎক্ষিকভাবে তোলা যাবে। একই সঙ্গে চলতি বছর থেকে বাজারভিত্তিক হারে মুনাফা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মুনাফার হার সম্পর্কে গভর্নর জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সম্পূর্ণ বাজারদরে মুনাফা কার্যকর হয়েছে। এক বছরের বেশি মেয়াদি আমানতে মুনাফার হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এক বছরের কম মেয়াদি আমানতে ৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য নির্ধারিত নতুন মুনাফার হারটি বাজারভিত্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক।’
গভর্নর জানান, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য আমানতকারীরা ৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন, কারণ ওই দুই বছরে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকই বড় ধরনের লোকসানে ছিল।
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যাংক লোকসানে থাকলে আমানতকারীদের মুনাফা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সরকার ‘এক্স-গ্রেশিয়া’ (অনুকম্পা) হিসেবে এই ৪ শতাংশ মুনাফা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, এই উদ্যোগে সরকার দুই বছরের জন্য যে ৪ শতাংশ সহায়তা দিচ্ছে, এতে অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। তাই গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গভর্নর বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে বিভিন্ন মহলে কিছু অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। কোনো পরিকল্পনাই শতভাগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা হয়। তবে কিছু মহল একীভূত ব্যাংকের কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অপচেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গভর্নর আরও বলেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মাসিক সঞ্চয়ী স্কিমের আওতায় আমানতকারীরা মাসিক ভিত্তিতে মুনাফা পেতে শুরু করবেন। তবে দুই লাখ টাকার বেশি আমানতের মূলধন উত্তোলনে কিছুটা সময় লাগবে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, ভোক্তাদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী সপ্তাহের মধ্যেই একটি হটলাইন চালু করবে, যেখানে আমানতকারীরা সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিভিন্ন মহলে অসন্তোষের কথা স্বীকার করে গভর্নর বলেন, কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে কাজ করছে।