।।বিকে রিপোর্ট।।
লেখক-গবেষক, প্রবীণ বামপন্থী রাজনীতিক এবং জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমর আর নেই।
রবিবার ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার কিছু পরে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকারে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম।
তিনি বলেন, আজ সকালে তিনি বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অসুস্থ অবস্থায় বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ১০টা ৫ মিনিটে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে গত প্রায় এক মাস ধরে বদরুদ্দীন উমর অসুস্থ ছিলেন। এ সময়ে তাঁকে একাধিকবার হাসপাতালে নিতে হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার এক উচ্চবিত্ত পরিবারে ১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর তার জন্ম । বাবা বিখ্যাত রাজনীতিবিদ আবুল হাশিম, অবিভক্ত বাংলায় মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ে পিপিই ডিগ্রি অর্জনের পর বদরুদ্দীন উমর দেশে ফিরে আসেন। ১৯৬৩ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। তবে গভর্নর মোনায়েম খানের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে ১৯৬৮ সালে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতি ও লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন।
ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি নিয়ে তাঁর লেখা পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি ছিল ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম গবেষণাগ্রন্থ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে পেশাজীবন শুরু করলেও পরে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীনভাবে কাজ করেন এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগ গড়ে তোলেন।
রাজনৈতিক জীবনেও বদরুদ্দীন উমর ছিলেন সক্রিয়। তিনি বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ছিলেন। এক সময় পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০৩ সালে তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেন এবং সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বদরুদ্দীন উমর বামপন্থি রাজনীতিবিদ ও তাত্ত্বিক। রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়িয়ে তিনি একজন লেখক, গবেষক ও বুদ্ধিজীবী। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও নানা প্রয়োজনের সময় তিনি দক্ষতার সঙ্গে বিশ্লেষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ ছিলেন।