।।বিকে রিপোর্ট।।
বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী লালদিয়া-পানগাঁও টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিল এবং নিউমুরিং ও পতেঙ্গা টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে যমুনা অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ৪ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা ২০ মিনিটেরে দিকে রাজধানীর কাকরাইলে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসব দাবির পক্ষে সমাবেশ করে বাম গণতান্ত্রিক জোট, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা, বাংলাদেশ জাসদ ও জাতীয় গণফ্রন্ট। সমাবেশ শেষে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়।
মিছিলটি পুরানা পল্টন হয়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে কাকরাইল মোড়ে পৌঁছায়। এ সময় পুলিশ বাধা দিলের পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটা করে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।
পরে বিক্ষোভকারীরা কাকরাইল মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁরা হলেন কাজী রুহুল আমিন, জহুর লাল রায়, অন্ত অবিন্দম, ইমতিয়াজ আহমেদ রাফিন, রাসেল আহমেদ, শোয়েইব আহমেদ আসিফ, সীমা দত্ত, শাহিনুর আক্তার সুমি, ফাহিম আহমেদ চৌধুরী, স্বাকাই ইসলাম, রাকিব আহমেদ ও প্রিজম ফকির।
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, আহত ব্যক্তিরা জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তিদের অবস্থা গুরুতর নয়।
পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন এলাকায় মিছিল, মিটিং ও সমাবেশ নিষিদ্ধ। যারা কর্মসূচি দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় কথা হয়েছে। তারপরও তরা যমুনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে থামানোর চেষ্টা করে। এ সময় তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। এটাকে সেই অর্থে লাঠিপেটা বলা যাবে না।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ)সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে। এতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফি, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহুল আমিনসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পুলিশি হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার ৫ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বেলা ১টা ১০ মিনিটে এ ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভকারীরা কাকরাইল মোড় ছেড়ে দেন। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন।