Breaking News:


শিরোনাম :
একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব ঈদের ছুটি কাটিয়ে রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ নিউইয়র্কে অবতরণের সময় রানওয়েতে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ বিমানের স্বাধীনতা দিবসে দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির ঠাকুরগাঁওয়ে বাজারে পেট্রোল ৩৫০ টাকা,পাম্পে তেল নেই হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে : রেলপথ প্রতিমন্ত্রী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় ইসলামী আন্দোলনের শোক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে: অর্থমন্ত্রী

বাঁধ ভেঙে ফের ডুবছে ফেনী : দুই উপজেলায় প্রস্তুত ১৩১ আশ্রয়কেন্দ্র, খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম

  • ১০:১৩ এএম, বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
ছবি: ষংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
টানা বর্ষণের পাশাপাশি ভারতীয় উজানের পানির ঢলে মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত দশটি স্থান ভেঙে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার ৮ জুলাই বিকেল থেকে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

অবিরাম বৃষ্টিতে ফেনী শহরের ডাক্তারপাড়া, শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়ক, পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস, শাহীন একাডেমি এলাকা, পাঠানবাড়ি, নাজির রোড, মিজান রোড, একাডেমি, সদর হাসপাতাল মোড় ও পেট্রোবাংলাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে এসব এলাকার নিচু সড়কগুলো। দোকানপাটে পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মালপত্র।

ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নানা প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে দুই উপজেলায় মোট ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্গতদের জন্য শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবারের জন্য সাড়ে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফুলগাজী উপজেলায় ৩২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পরশুরাম উপজেলায় ৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন শাখায় ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম (মোবাইল নম্বর-01818-444500, 01336-586693) খোলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় ৪০০ করে মোট ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গতদের মধ্যে রান্না করা খাবার সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজানের পানিতে মুহুরী ও সিলোনিয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ১০টি স্থান ভেঙে গেছে। এতে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে হাজারো মানুষ। 


এছাড়া সিলোনিয়া নদীর মির্জানগর ইউনিয়নের পশ্চিম গদানগর, জঙ্গলঘোনা, উত্তর মনিপুর দাসপাড়া ও মেলাঘর কবরস্থানের পাশে চারটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে অন্তত ১৫ গ্রামের হাজারো মানুষ।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কাশেম বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত পাঁচটি স্থানে ভাঙনের তথ্য পেয়েছি। আরও খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানব। মাঠপর্যায়ে আমাদের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. মজিবুর রহমান জানান, জেলায় টানা দুই দিন ধরে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মঙ্গলবার ৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা বিগত কয়েক বছরে সর্বোচ্চ। আগামী ২-৩ দিন জেলাজুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিনি ফুলগাজীর নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করছেন। মুহুরী, কহুয়া, সিলোনিয়া নদীতে পানি বাড়ায় বিষয়টি নিয়মিত জেলা প্রশাসন থেকে তদারক করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসন বন্যার সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech