Breaking News:


বাংলাদেশে হালাল শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা : ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ

  • ১০:৩৮ এএম, রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫
ছবি: বাসস

।।বিকে রিপোর্ট।।
বিশ্বে হালাল পণ্যের বাজার প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও বাংলাদেশ রপ্তানি করছে ১ বিলিয়ন ডলারেরও কম।

কার্যকর হালাল ইকোসিস্টেম না থাকা ও স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষের অভাবে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

শনিবার ১১ অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের হালাল শিল্পখাতের উন্নয়ন : সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় ডিসিসিআইর ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী এমন মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের হালাল শিল্পকে বৈশ্বিক বাজারে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বিদ্যমান সুযোগগুলোকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, হালাল বাজারের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাংলাদেশে একটি ঐক্যবদ্ধ, জ্ঞানভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত হালাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

তারা আরো বলেন, কোনো পণ্য শুধু ধর্মীয়ভাবে বৈধ হলেই যথেষ্ট নয়, বরং তা হতে হবে বিশুদ্ধ, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মতও। ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) হালাল সার্টিফিকেশন উদ্যোগ বাংলাদেশের হালাল শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এনেছে।

তিনি বলেন, হালাল শিল্প খাতকে আমাদের অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হলে স্বতন্ত্র হালাল সার্টিফিকেশন বোর্ড গঠন করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের হালাল পণ্যের রপ্তানি প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলার, যার অধিকাংশই কৃষিভিত্তিক। অথচ বৈশ্বিক বাজার দ্রুত বাড়ছে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে এটি ৯.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

হালাল শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা থাকলেও কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে এ খাত কাঙ্ক্ষিতভাবে বিকশিত হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মান বজায় না রাখা, পরীক্ষাগার স্বল্পতা, সার্টিফিকেট প্রদানের জটিলতা এবং দক্ষ জনবলের অভাব বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো ধর্মীয় বিধান, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও জাতীয় ব্র্যান্ডিংকে একত্রিত করে হালাল খাতকে নীতিনির্ধারণের আওতায় এনেছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশও একইভাবে এগোলে বিশাল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

দেশে এখনো ‘হালাল কান্ট্রি ব্র্যান্ডিং’ গড়ে ওঠেনি। এজন্য বড় আকারের আন্তর্জাতিক হালাল এক্সপো আয়োজন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) প্রকল্প বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন বক্তারা।

আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইইউবিএটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিএসটিআই উভয় প্রতিষ্ঠান হালাল সনদ প্রদান করে, যা অনেক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও জটিলতা তৈরি করছে।

আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, বিডার মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আরিফুল হক, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক বেবী রাণী কর্মকার, বিএসটিআইর উপ-পরিচালক (হালাল সার্টিফিকেশন) এসএম আবু সাইদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ডা. মো. আবু সালেহ পাটোয়ারী, বেঙ্গল মিটের এজিএম সায়েদুল হক ভূঁইয়া, মেটামরফোসিস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিক এম আলম এবং প্যারাগন গ্রুপের সহকারী ম্যানেজার (এক্সপোর্ট) মো. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech