।।বিকে রিপোর্ট।।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশন পরিদর্শন করে বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানান।
সোমবার ৫ জানুযারি পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানানো হয।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোষ্টে বলা হয়, শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশ হাই কমিশনে গিয়ে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ হাইকমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহবাজ শরিফ বিকেলে ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ইসরাত জাহান, প্রেস কাউন্সিলর মো. তৈয়ব আলী ও কাউন্সিলর (কনস্যুলার) সরদার মোহাম্মদ নোমানুজ্জামান।
এ সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তারিক ফাতেমী।
শোকবইয়ে স্বাক্ষর শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় উদ্যোগী হয়ে বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁর পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।
তিনি দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তাঁর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও উন্নয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে তিনি খালেদা জিয়ার পরিবার, তার দলীয় কর্মী এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি ‘আন্তরিক সমবেদনা’ প্রকাশ করেন এবং আল্লাহর কাছে তার আত্মার শান্তি কামনা করেন। এবং দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সদ্যপ্রয়াত এই নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রথম ও ৩ বারের সাবেক নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। পরে জাতীয় সসংদের দক্ষিণ প্লাজায় ইতিহাসের ২য় বৃহত্তম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পূর্ন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর স্বামী প্রয়াত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিযার রহমানের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।