Breaking News:


শিরোনাম :
কাঁটাতার দিয়ে কারও সাথে বন্ধুত্ব করা যায় না চীন সফরে গেলেন ট্রাম্প মিরপুর চেস্টে পাকিস্তানকে উড়িয়ে ১-০তে সিরিজে এগিয়ে বাংলাদেশ বাংলাদেশ-জাপান বিজনেস সেমিনার: বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরলেন রাষ্ট্রদূত ঈদুল আজহা : অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু, ২৩ মে’র টিকিট বিক্রি হচ্ছে আজ ভারতীয় নিম্নমানের বীজে পথে বসেছেন শত শত প্রান্তিক পেঁয়াজচাষি ঈদুল আজহা ঘিরে দেশব্যাপী থাকবে কঠোর নিরাপত্তা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আকাশ আজ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে, সেই সঙ্গে রয়েছে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের অস্ত্রে পরিণত হয়েছে: কাতার লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, তীব্র নিন্দা ঢাকার

ভারতীয় নিম্নমানের বীজে পথে বসেছেন শত শত প্রান্তিক পেঁয়াজচাষি

  • ১০:৩৫ এএম, বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে ডেস্ক।।
ভারতীয় নিম্নমানের বীজে চাষ করে এবার পথে বসেছেন শত শত প্রান্তিক পেঁয়াজচাষি। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পেয়াজচাষীদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।

হেতামপুর গ্রামের কৃষক এনামুল হক এ বছর ১২ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেন। বিঘা প্রতি প্রায় ১০০(একশত) মণের বেশি পেঁয়াজের উৎপাদন হয় । পেঁয়াজের উচ্চ ফলনে খুশি হয়েছিলেন তিনি । তবে তার এই খুশি বেশি দিন স্থায়ী হয়নী । ১০ থেকে ১৫ দিনের মাঝেই প্রায় ৭০০ (সাতশত) মণ পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় ৭ (সাত) লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে ।

প্রান্তিক চাষীরা মাঠ থেকে তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ ঘরে আনলেও বাজারে এনে বিক্রি করতে না পারায় হাজার হাজার মন পেঁয়াজ ঢেলে ফেলছেন পানিতে।

নিম্নমানের ভারতীয় বীজের এই পেঁয়াজে ধরছে পঁচন, সংরক্ষণ যোগ্য না হওয়ায় বাড়িতে পঁচা-গলা আর দুর্গন্ধে টেকা দায়। হাহাকার চলছে শত শত প্রান্তিক কৃষক পরিবারে।

এই দৃশ্য দেশের পঞ্চম ও খুলনা বিভাগের সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত এলাকা ঝিনাইদহে। বীজ কিনে কৃষকেরা প্রতারিত হয়েছে জানালেও কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে এসব চক্রের বিরুদ্ধে নেই কোন পদক্ষেপ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পানিতে ভাসছে কৃষকের ঘাম ঝরা, রক্তপানি করা পরিশ্রমের পেঁয়াজ। দেখতে অনেক টা আপেলের মতো বড় বড় সাইজের উজ্জ্বল লালচে রঙের হাজার হাজার মন পেঁয়াজ কৃষকের বাড়ির আশপাশের ডোবা-নালায় পড়ে আছে। পঁচা-দুর্গন্ধ ভাসছে আকাশে-বাতাসে। গৃহবধুরা প্রতিদিনই বস্তা আর ঝুড়ি ভরে ঘরের মাচা থেকে এনে ঢালছে পানিতে। চাষীদের স্বপ্নের ফসলের এ এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য।

কৃষকদের অভিযোগ মেহেরপুর, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঝিনাইদহের শৈলকুপার অসাধু ব্যবসায়ী ও বীজ প্রতারক চক্র নিন্মমানের ভেজাল বীজ এনে প্রান্তিক চাষীদের কাছে বিক্রি করছে । চলতি মৌসুমে সেসব বীজে সুখসাগর, লালতীর বা দেশীয় ভাল মানের পেঁয়াজ না হয়ে ভারতীয় নিন্ম মানের নাসিক জাতের পেঁয়াজ হয়েছে। যা সংরক্ষণ যোগ্য নয় এবং দ্রুত পঁচনশীল। এসব পেঁয়াজ বিঘা প্রতি দেড়শ মনেরও বেশী ফলন হলেও নেই কোন দাম। প্রতিমন ১’শ থেকে ২শ টাকাও বিক্রি হচ্ছে না। ফলে কৃষকেরা উৎপাদিত সমস্ত পেঁয়াজ ডোবা-নালা, খালে-বিলে ফেলে দিচ্ছে।

একই এলাকার হাসান, ফরিদ, শহীদ সহ অর্ধশত কৃষকসহ উপজেলা জুড়ে কয়েক হাজার কৃষক তাদের হাজার হাজার মন পেঁয়াজ হয়েছে নাসিক বা ভারতীয় নিম্নমানের জাত। ফলে সেসব পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি না হওয়ায় ফেলছেন ডোবাতে । অনেকের ঘরের মাচায় অতি যত্নে রাখা কিছু রয়েছে সেসব পেঁয়াজের খোলসেও ধরছে পচন। বাড়ির গৃহবধূরা এসব বেছে বেছে ফেলে দিচ্ছেন।

উপজেলার ধলহরাচন্দ্র গ্রামের এক কৃষক দেড়শো মন পেঁয়াজ ফেলে দিছেন পাশের ডোবাতে । শৈলকুপা বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর অরণ্য জানান, অনেক প্রান্তিক চাষির সব পেঁয়াজই এভাবে পঁচন ধরছে, তারা বাজারে আনলেও ব্যবসায়ী, পাইকার সেসব পেঁয়াজ কিনছেন না। তিনি বলেন অনেক কৃষক ক্ষোভে বাজারেই ঢেলে খালি বস্তা হাতে নিয়ে ফিরছেন বাড়িতে।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের সর্বাধিক পেঁয়াজ উৎপাদিত এলাকা হিসাবে খ্যাত শৈলকুপার চাষীরা এবার সার-বীজ, কীটনাশক সংকটে পড়ে চাষের শুরুতেই । সরকারের ভর্তুকীর প্রয়োজনীয় ডিএপি সার বিসিআইসির ডিলার-সাব ডিলাদের মধ্যে চলে লুটপাট, করা হয় কৃত্তিম সংকট। ফলে ১ হাজার টাকা বস্তার সার চাষীদের কিনতে হয় ২ হাজার টাকারও বেশি দাম দিয়ে, তবুও পাননি অনেক কৃষক। সারের জন্য কয়েকটি স্থানে ঘটে সহিংসতাও। প্রয়োজনীয় সার-ওষধ না পাওয়ায় বাড়তি দামে উৎপাদন খরচ হয়ে যায় দ্বিগুন-তিনগুণ।

এসবের পরেও শৈলকুপায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করে কৃষকেরা। তারা মোট ১২ হাজার ৮শ৩৬ হেক্টর জমি জুড়ে আবাদ করে পেঁয়াজের।

তবে পেঁয়াজ তোলার পর চাষীরা দেখতে পায় কাঙ্খিত জাতের বদলে তাদের জমিতে হয়েছে ভারতীয় নিন্মমানের নাসিক জাতের পেঁয়াজ। যা দু থেকে ৫দিনও সংরক্ষণ করা যায় না, ধরে পঁচন। অধিকাংশ প্রান্তিক চাষীর ১ বিঘা, ২ বিঘা বা পুরো জমির সবই হয় এ জাতের। অনেকে তড়িঘড়ি বাজারে আনলেও ১টি পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে না। ফলে সেখানেই ঢেলে ফেলছে, কয়েক হাজার কৃষকের হয়েছে এমন সর্বনাশ।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শৈলকুপায় ১২ হাজার ৮৩৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৮০৫ হেক্টর বেশি। হেক্টর প্রতি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০.২টন, তবে তা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি হেক্টরে উৎপাদন হয়েছে ২০.৭ টন । এবার মোট উৎপাদন হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার টনের বেশি পেঁয়াজ ।

এদিকে বীজ প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে দেশীয় বা উন্নত জাতের বদলে কেজি প্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় নাসিক জাতের বীজ কিনে প্রান্তিক চাষীরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে, এমন কথা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা স্বীকার করলেও তাদের বিরুদ্ধে নেয়নি কোন পদক্ষেপ।

শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান খান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কিছু কৃষকের বীজের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে। এভাবে ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন করলে তাদের বীজের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হবে। তবে বীজ প্রতারক চক্র নিয়ে তাদের নেই কোন মাথাব্যাথা। সংকলিত।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech