মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুঃ স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

  • ১১:০৭ এএম, শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
ছবি: সংগৃহিত ফাইল ফটো

।। বিকো রিপোর্ট ।।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার প্রস্তুতি রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। জ্বালানি আমদানির বিল দ্রুত পরিশোধে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা জোগানেও বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিস্তৃত হওয়ায় ৩ মার্চ মঙ্গলবার জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সরকারি ও বেসরকারি খাতের জ্বালানি পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়, হুরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকা এবং কাতার এনার্জি উৎপাদন বন্ধ রাখায় কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় যে এলএনজি পাওয়ার কথা ছিল, সেটি না পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে আরও জানানো হয়, ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এই মাসে দুই কার্গো এলএনজি সরবরাহ করার বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাড়তি আরও দুই কার্গো দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু পুরো মাসের চাহিদা মেটাতে কমপক্ষে ৮ কার্গো এলএনজি প্রয়োজন।

জ্বালানি বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যম কে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী স্পট মার্কেট থেকে প্রয়োজনীয় এলএনজি আমদানির নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে। তাৎক্ষণিক কোনো সংকটের আশঙ্কাও নেই। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

“প্রয়োজন অনুযায়ী স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি কেনার জন্য সব ধরনের প্রক্রিয়াগত, আর্থিক ও সরবরাহ সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

উল্লেখ্য দেশে প্রতিদিন গড়ে ২৬০০ থেকে ২৯০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৯০০ থেকে ৯৮০ এমএমসিএফডি আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে।

দেশে গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়য় চাহিদা মেটাতে বছরে ১১০ থেকে ১১৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করতে হয়, যার বড় অংশ কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আসে।

পেট্রোবাংলার ৩ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২৬৬২ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫২ এমএমসিএফডি এসেছে আমদানি করা এলএনজি থেকে।

বর্তমানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কাছে ২ লাখ টনের বেশি ডিজেল মজুত আছে, যা দিয়ে ১৪ দিন পর্যন্ত চলা সম্ভব। এছাড়া, ২১ হাজার ৭০৫ টন পেট্রোল, ৩৪ হাজার ১৩৩ টন অকটেন এবং ২০ দিনের চাহিদার সমপরিমাণ জেট ফুয়েল মজুত আছে।

সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, বর্তমান ডিজেল মজুত দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ চাহিদা মেটানো সম্ভব। পদ্মা অয়েলের কাছে প্রায় ২০ দিনের চাহিদার সমপরিমাণ জেট ফুয়েল রয়েছে।

গৃহস্থালীতে রান্নার কাজে বেশি ব্যবহার হওয়া এলপিজির বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ বলছে, ফেব্রুয়ারিতে খোলা এলসির আওতায় মার্চ মাসে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার টন এলপিজি দেশে আসার কথা। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কিছু চালান বিলম্বিত হতে পারে। এ অবস্থায় বেসরকারি আমদানিকারকদের বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech