Breaking News:


মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন তাসনিম জারা

  • ০৮:৫৭ পিএম, শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬
ছবি: তাসনিম জারার ফেসবুক

।।বিকে রিপোর্ট।।
মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করবেন তাসনিম জারা। এই প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র এই প্রার্থী।

শনিবার ৩ জানুয়ারী দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা এ কথা বলেন।

উল্লেখ্য, তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আজ বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আজমল হোসেন বলেন, মোট ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৩০০ জনের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল। সেটা ঠিকই ছিল। বরং কিছু বেশি ভোটারের স্বাক্ষর ছিল। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে নাম দেওয়া ১০ জনের মধ্যে আটজন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার। বাকি দুজন ওই আসনের ভোটার না হওয়ায় নির্বাচনবিধি অনুযায়ী, তাঁর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে তাঁর (তাসনিম জারা) আপিলের সুযোগ আছে।

তাসনিম জারা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আজ বাছাইপর্ব ছিল। বাছাইয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র গৃহীত হয়নি। তাঁরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। আপিলের প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু করেছেন।

তাসনিম জারা বলেন, মনোনয়নপত্র গ্রহণ না করার পেছনে নির্বাচন কমিশন যে কারণ দেখিয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। যা দরকার ছিল, তার চেয়ে বেশি স্বাক্ষর তাঁরা জমা দিয়েছিলেন। সেখান থেকে ১০ জনের তথ্যের সত্যতা তাঁরা ভেরিফাই (যাচাই) করতে গিয়েছেন। ১০ জনের সত্যতা পেয়েছেন। তবে এই ১০ জনের মধ্যে ২ জনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তাঁরা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার নন। এই দুজন জানতেন, তাঁরা ঢাকা-৯-এর ভোটার। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা ঢাকা-৯-এর ভোটার নন।

তাসনিম জারা বলেন, একজনের বাসা খিলগাঁও। খিলগাঁওয়ে ঢাকা-৯ ও ঢাকা-১১ দুটি আসনই পড়ে। স্বাক্ষরকারী জানতেন, তিনি ঢাকা-৯-এর ভোটার। সে অনুযায়ী স্বাক্ষর করেছেন। আরেকজনের সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, তিনি ঢাকা-৯-এর ভোটার। কয়েক বছর আগে তিনি শরীয়তপুরে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ঠিকানা সংশোধনের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কোনো আপডেট পাননি। এখন নির্বাচন কমিশনের অনলাইন ডেটাবেজ অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, তিনি শরীয়তপুরের ভোটার।

এ বিষয়ে তাসনিম জারা বলেন, এই দুজনের জানার কোনো উপায় ছিল না, তাঁরা কোন আসনের ভোটার। এই তথ্য জানার কোনো উপায় নির্বাচন কমিশন রাখেনি।

তাসনিম জারার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, কোনো আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। সেই হিসাবে ঢাকা-৯ আসনের জন্য তাসনিম জারা ৫ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিয়েছিলেন। এসব স্বাক্ষরের মধ্যে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৮ জনের তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। অন্য ২ জনের ক্ষেত্রে একজনের ভোটার এলাকা শরীয়তপুর ও আরেকজনের ঢাকা-১১-তে পাওয়া গেছে। কিন্তু তাঁরা যখন স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন, তখন ওই দুজনের জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখ ছিল তাঁরা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার।

যে দুজন ভোটারের তথ্যে গরমিলের কারণে তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাঁরা এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি তাঁদের দিয়েছেন বলে জানান খালেদ সাইফুল্লাহ। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাসনিম জারা আপিল করবেন।

গত ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের নির্বাচনী আসন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। তবে এই আলোচনা যখন প্রায় চূড়ান্ত, এমন পরিস্থিতিতে গত ২৭ ডিসেম্বর এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন তাসনিম জারা। তিনি দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্বে ছিলেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech