শিরোনাম :
পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পরিকল্পনা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের ভারতে বসে দেশে ফেরার ছক কষছেন আ’ লীগ নেতারা ঐতিহাসিক বিজয়ে তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা ভোট বয়কটের কোনো পরিকল্পনা নেই ১১ দলীয় জোটের: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি: যমুনার সামনে বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো গুলি ছোঁড়েনি জাবেরের ওপর হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক : তাসনিম জারা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষনা ইরানের সঙ্গে খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে, বললেন ট্রাম্প প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং: ৮.০২ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য অর্ডার পেল বাংলাদেশ

মালয়েশিয়ায় ৬২০০ অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতার

মালয়েশিয়াজুড়ে অবৈধ অভিবাসন ও পারমিট জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সাঁড়াশি অভিযানে ৬,২০০ অবৈধ অভিবাসী এবং ২৩০ জন নিয়োগকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

ইমিগ্রেশনের উপমহাপরিচালক লোকমান আফেন্দি রামলি জানান, এ সময়ের মধ্যে সারা দেশে মোট ২৭ হাজার বিদেশি নাগরিককে তল্লাশি করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে দেশটিতে প্রায় ১৭০০টি পৃথক অভিযানে এসব তল্লাশি ও গ্রেফতার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গ্রেফতারদের মধ্যে সর্বাধিক রয়েছে মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ ও চীনের নাগরিক।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যারা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দেশে অবস্থান করছে বা পারমিটের শর্ত ভঙ্গ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে অবৈধ কর্মী নিয়োগকারী নিয়োগকর্তারাও আইনের আওতার বাইরে নন।

বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে সেলাঙ্গর অঙ্গরাজ্যের কাজাংয়ের সুংগাই লং এলাকায় বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে পরিচালিত ‘অপস সেলেরা’ অভিযানে আরও ৫১ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে শুরু হওয়া ওই অভিযানে ২২৫ জন বিদেশি এবং ২৩৮ জন স্থানীয় নাগরিককে পরীক্ষা করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫১ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।

লোকমান আফেন্দি রামলি জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বয়স ২১ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ৪০ জন পুরুষ ও ১১ জন নারী, যাদের বেশির ভাগই মিয়ানমারের নাগরিক। অভিযানকালে কয়েকজনকে রেস্টুরেন্টে কাজ করার সময় হাতেনাতে ধরা হয়।    

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গ্রেফতারদের মধ্যে কেউ কেউ প্ল্যান্টেশন বা বাগান খাতে কাজের অনুমতিপত্র থাকলেও সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে—বিশেষ করে খাদ্য ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ে—কাজ করছিলেন। এটি স্পষ্টভাবে পারমিটের অপব্যবহার এবং মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে বাজার ও বিশেষ করে রমজান বাজারগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। উপমহাপরিচালক সতর্ক করে বলেন, রমজান মাসে কোনো বিদেশি নাগরিক যেন অবৈধভাবে স্টল পরিচালনা বা অন্যের পারমিট ব্যবহার করে ব্যবসা চালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ টাস্কফোর্স মাঠে থাকবে।

ইমিগ্রেশন বিভাগ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—অবৈধ অভিবাসন, পারমিট বাণিজ্য এবং আইন অমান্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। শুধু অবৈধ কর্মী নয়, তাদের আশ্রয়দাতা ও সুবিধাভোগীরাও আইনের কঠোর জালে আটকা পড়বে। ইমিগ্রেশন সাফ জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় অবস্থান করতে হলে আইন মেনেই চলতে হবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech