মিস ইউনিভার্সের মুকুট জিতলেন মেক্সিকোর ফাতিমা বশ

  • ০৭:৪৩ পিএম, শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
বিশ্বের সর্বোচ্চ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ‘মিস ইউনিভার্স ২০২৫’ জিতেছেন মেক্সিকোর ফাতিমা বশ। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো মেক্সিকোর মাথায় উঠলো মিস ইউনিভার্সের গৌরবময় মুকুট।

২১ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ব্যাংককের আইকনিক স্টেজে অনুষ্ঠিত হয় ফাইনাল রাউন্ড, যেখানে শেষ পাঁচে জায়গা করে নেন থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভেনেজুয়েলা, মেক্সিকো ও আইভরি কোস্টের প্রতিযোগীরা।

বিচারকদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর পর্বেই নির্ধারিত হয় চ্যাম্পিয়ন। আর সেখানেই সবচেয়ে বেশি আলো ছড়ান ফাতিমা।

কয়েকদিন আগেই আয়োজকদের অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান ত্যাগ করেছিলেন তিনি। নাওয়াত ইৎসারাগ্রিসিলের প্রকাশ্য বিরূপ মন্তব্যের পর সেই প্রতিবাদ বিশ্বজুড়ে তাকে পরিচিত করে ‘ভয়হীন নারী’ হিসেবে। ফাইনালের মঞ্চেও সেই দৃঢ় অবস্থান স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। নারী অধিকার, আত্মসম্মান ও নেতৃত্ব নিয়ে করা প্রশ্নে তার আত্মবিশ্বাসী উত্তর পুরো হলজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।

গত বছরের বিজয়ী ডেনমার্কের ভিক্টোরিয়া কেয়ার থেইলভিগের কাছ থেকে মুকুট গ্রহণ করেন বোশ।

ফাইনালে প্রথম রানার-আপ হন থাইল্যান্ডের প্রাভিনার সিং। এরপর অবস্থান করেন ভেনেজুয়েলার স্টেফানি আবাসালি, ফিলিপাইনের আথিসা মানালো এবং আইভরি কোস্টের অলিভিয়া ইয়াসে।

বিউটি পেজেন্টের “সুপার বোল” হিসেবে পরিচিত মিস ইউনিভার্সের প্রতিটি আসর দেখতে বসেন লাখো দর্শক। এবার থাইল্যান্ডে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ১২০টি দেশের প্রতিনিধিরা।

সুইমস্যুট রাউন্ড শেষে সেরা ৩০ থেকে বেছে নেওয়া হয় ১২ জনকে। পরে ইভনিং গাউন রাউন্ডের পর নির্বাচিত হয় চূড়ান্ত পাঁচজন।

ফাইনালে প্রতিযোগীদের সামনে রাখা হয়—জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কোন বৈশ্বিক ইস্যু তুলে ধরবেন এবং তরুণী মেয়েদের অনুপ্রাণিত করতে মিস ইউনিভার্স প্ল্যাটফর্ম কীভাবে ব্যবহার করবেন—এসব প্রশ্ন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে বোশ বলেন, নিজের সত্যিকারের সত্তার শক্তিতে বিশ্বাস রাখুন। আপনার স্বপ্ন মূল্যবান, আপনার হৃদয় মূল্যবান। কাউকে কখনো আপনার মূল্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি করতে দেবেন না।

এবারের প্রতিযোগিতাকে ঘিরে নানা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে জোর সমালোচনা হয়। মাসের শুরুতে হওয়া ওয়াকআউট নতুন করে প্রশ্ন তোলে নারীর ক্ষমতায়নের দাবি নিয়ে আয়োজকদের অবস্থান সম্পর্কে।

এক লাইভ ব্রিফিংয়ে মিস ইউনিভার্স থাইল্যান্ডের ডিরেক্টর নাওয়াত ইৎসারাগ্রিসিল অভিযোগ করেন—বোশ নাকি পর্যাপ্ত প্রোমোশনাল কনটেন্ট পোস্ট করছেন না। যদিও তিনি ‘ডামহেড’ বলার অভিযোগ অস্বীকার করেন, তবুও স্বীকার করেন যে ‘ড্যামেজ’ করার অভিযোগ তিনি তুলেছিলেন।

আপত্তি জানালে তিনি নিরাপত্তাকর্মী ডেকে বোশকে বের করে দিতে বলেন, আর তাতেই অন্য প্রতিযোগীরা সংহতি জানিয়ে বের হয়ে আসেন।

এ ঘটনা আন্তর্জাতিক সমালোচনা ডেকে আনে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম নাওয়াতের বক্তব্যকে “আক্রমণাত্মক” বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, বোশ বিষয়টি “মর্যাদার সঙ্গে” সামলেছেন। পরে মিস ইউনিভার্স সংস্থা নাওয়াতের দায়িত্ব সীমিত করে এবং এক স্বাগত অনুষ্ঠানে তিনি ক্ষমাও চান।

অন্যদিকে, মিস ইউনিভার্স ১৯৯৬ আলিসিয়া মাচাডো একটি ইনস্টাগ্রাম লাইভে নাওয়াতকে নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য ও অপমানজনক ইশারা করায় তাকেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

পুরো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন মার্কিন কৌতুকশিল্পী স্টিভ বায়ার্ন, আর উদ্বোধনী পরিবেশনায় ছিলেন থাই তারকা জেফ স্যাচুর।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech