Breaking News:


যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী প্রধানকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প

  • ০১:০০ পিএম, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ‘চেয়ারম্যান অব জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ’ জেনারেল চার্লস কিউ ব্রাউনকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দেশটির সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন।

শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারী দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা হলেন জেনারেল চার্লস কিউ ব্রাউন জুনিয়র যুদ্ধবিমানের চার তারকাবিশিষ্ট পাইলট সি কিউ ব্রাউন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান। তিনি আফ্রিকা বংশোদ্ভূত দ্বিতীয় কোনো মার্কিন নাগরিক, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত হন।

এ বরখাস্তের মধ্য দিয়ে দেশের মুখ্য সামরিক নেতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে রাজনীতিকেই প্রাধান্য দিলেন ট্রাম্প।

এছাড়া একইদিন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রাঙ্কচেট্টি ও বিমান বাহিনীর উপপ্রধান জেনারেল জেমস স্লিফকে বরখাস্তের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে গতকাল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেখেন, ‘আজ আমি এ ঘোষণা দিতে পেরে সম্মানিতবোধ করছি যে আমি জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে বিমানবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল ড্যান “রাজিন” কেইনকে মনোনীত করছি।’ তিনি আরও লেখেন, ‘জেনারেল কেইন দক্ষ পাইলট, জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, সফল উদ্যোক্তা ও “যুদ্ধবাজ”। তিনি আন্তসংস্থা ও বিশেষ অভিযানের ওপর উল্লেখ করার মতো অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।’

সঙ্গে আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, সামরিক বাহিনীর আরও কিছু কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হবে। তিনি লিখেছেন, “আমি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে আরও পাঁচজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে নির্দেশনা দিয়েছি। যেগুলো খুব দ্রুতই ঘোষণা করা হবে।”

ট্রাম্প গত ২০ জানুয়ারি শপথ নেওয়ার আগেই সশস্ত্র বাহিনীতে ব্যাপক রদবদল আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। জেনারেল চার্লস কিউ ব্রাউনকে বরখাস্ত করে সেটির সূচনা করেছেন তিনি।

জেনারেল ব্রাউনকে বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের এমন মনোভাবের প্রতিফলন ঘটল যে মার্কিন সামরিক নেতৃবৃন্দ ‘জনশক্তিতে বৈচিত্র্যের সন্নিবেশ’ নিয়ে অতিমাত্রায় ব্যস্ত রয়েছেন এবং তাঁরা দেশকে রক্ষায় একটি যোদ্ধা বাহিনী হিসেবে নিজেদের ভূমিকা হারিয়ে ফেলেছেন। সেই সঙ্গে তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (সবার আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ) নীতি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণের বাইরে আছেন।

জেনারেল ব্রাউনকে বরখাস্ত করার ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, তাঁকে চাকরিচ্যুত করা উচিত। কেননা, সামরিক বাহিনীতে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচিতে (ডিইআই) তাঁর বেশি মনোযোগ।

পেন্টাগনে দায়িত্ব পালন শুরু করার প্রথম দিন পিট হেগসেথ জেনারেল ব্রাউনের পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়া ব্রাউনের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চান তিনি।

তবে জেনারেল ব্রাউনকে যে ট্রাম্পের আস্থাভাজনদের ঘরানায় স্বাগত জানানো হচ্ছে না, সেটি শিগগিরই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কর্মকর্তারা জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছিল না।

জেনারেল ব্রাউনের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এখনকার অবস্থান ২০২০ সালের পুরোপুরি বিপরীত। ওই সময় ব্রাউনকে বিমানবাহিনীর প্রধান হিসেবে মনোনীত করা হয়। এ বাহিনীর প্রধান হিসেবে প্রথম কোনো আফ্রিকান আমেরিকান নাগরিককে নিয়োগ দেওয়ার ঐতিহাসিক গুরুত্বও সে সময় তুলে ধরেন তিনি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, ‘এই জেনারেল একজন দেশপ্রেমী ও মহান নেতা।’

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech