ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে নয় বরং ইউক্রেনকেই বারবার ছাড় দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি টেকসই শান্তির জন্য কেবল ছাড় দিলেই হবে না, বরং ইউক্রেনের জন্য সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রয়োজন।
১৯৪৫ সালের পর ইউরোপের বৃহত্তম এই যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আগামী সপ্তাহে জেনেভায় ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। জেলেনস্কি এই বৈঠক নিয়ে আশাবাদী হলেও আলোচনার ধরন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জেলেনস্কি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, শান্তি আলোচনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর অনুপস্থিতি একটি বড় ভুল। তিনি মনে করেন, ইউরোপকে আলোচনার টেবিলে রাখা হলে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা আরও বাড়বে। বর্তমানে আলোচনার অন্যতম প্রধান জটিলতা হলো ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে রাশিয়ার দাবি।
ইউক্রেন এককভাবে সেনা সরাতে রাজি নয় এবং একই সাথে যুদ্ধবিরতির পর রাশিয়ার সম্ভাব্য পুনরায় হামলা ঠেকাতে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে অন্তত ২০ বছরের নিরাপত্তা গ্যারান্টি চাইছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ১৫ বছরের গ্যারান্টির প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু পুতিন ইউক্রেনে কোনো বিদেশি সেনা মোতায়েনের ঘোর বিরোধী।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ‘যুদ্ধের দাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, মস্কো আলোচনার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে জেনেভা বৈঠকের জন্য রাশিয়ার প্রতিনিধি দলে আকস্মিক পরিবর্তনকে তিনি সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে দেখছেন।
জেলেনস্কি ১৯৩৮ সালের মিউনিখ চুক্তির উদাহরণ টেনে সতর্ক করেন যে ইউক্রেনকে বিভক্ত করে শান্তি আনার চেষ্টা করা হবে একটি বিভ্রম, যেমনটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে চেকোস্লোভাকিয়াকে বিসর্জন দিয়ে করা হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষ থেকে দ্রুত শান্তি চুক্তি করার চাপের বিষয়টি স্বীকার করে জেলেনস্কি বলেন, ট্রাম্পের উচিত পুতিনকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য করা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যেকোনো শান্তি চুক্তির আগে একটি গণভোট প্রয়োজন এবং তার জন্য দেশব্যাপী নির্বাচনের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ মিশন ও বন্দি বিনিময় অপরিহার্য।
বর্তমানে রাশিয়ার কাছে প্রায় ৭ হাজার ইউক্রেনীয় সেনা এবং ইউক্রেনের কাছে ৪ হাজার রুশ সেনা বন্দি রয়েছে বলে তিনি জানান।
সূত্র: আল জাজিরা।