ভারতীয় অভিবাসীদের সামরিক বিমানে হাতকড়া ও শিকলে পা বেঁধে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সংসদে বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে প্রবল হইচই করেছে। তাদের বক্তব্য, আমেরিকা ভারতীয়দের প্রতি অমানবিক ব্যবহার করেছে। তাদের অপমান করা হয়েছে।
এমন ‘অমানবিক প্রত্যর্পণ’ নিয়ে আলোচনার জন্য ভারতের পার্লামেন্টের দুই কক্ষে বিরোধীরা দাবি জানালেও তা মানা হয়নি। প্রতিবাদে পার্লামেন্ট ভবন চত্বরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী দলের সদস্যরা বিক্ষোভ করেন।
বিরোধীদের বিক্ষোভের মুখে বৃহস্পতিবার ৬ ফেব্রুয়ারি এই ইস্যুতে পার্লামেন্টে বিবৃতি দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
সংসদে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্তৃপক্ষ অভিবাসীদের ফেরত পাঠায়। সেখানে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিভ প্রসিডিওর (এসওপি) আছে। ২০১২ সাল থেকে তা চালু আছে। সেখানে এই কড়াকড়ির কথা বলা হয়েছে।
জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, আইসিই তাকে জানিয়েছে, নারী ও বাচ্চাদের হাতকড়া বা শিকল পরানো হয়নি। অন্যদেরও খাবার সময় বা টয়লেট যাওয়ার সময়ও বাঁধনমুক্ত করা হয়েছিল।
কিন্তু ফেরত আসা অভিবাসীরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের হাত-পা বেঁধে নেয়া হয়। এরপর আমরা মনে করি বন্দিশালায় নেয়া হচ্ছে। কিন্তু তারা আমাদের বিমানবন্দরে নিয়ে এসে বলে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। দীর্ঘ ৪০ ঘণ্টার যাত্রা শেষে অমৃতসরে পৌঁছে খুলে দেয়া হয় (হাতকড়া ও শিকল)।
এক ভুক্তভোগী বলেন, আমাদের হাতকড়া পরিয়ে ক্যাম্পে নেয়া হয়। যেটাকে তারা বন্দিশালা বলে থাকে। শিশু বাদে নারীসহ আমাদের সবার হাত-পা বেঁধে দেয়া হয়। আমাদের খাওয়া কিংবা ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্যও তারা বাঁধন খোলেনি।
জয়শঙ্কর আরও বলেছেন, অবৈধ নথিহীন ভারতীয়দের ফেরত পাঠানোর ঘটনা নতুন নয়। ২০০৯ থেকে গত ১৫ বছরে ১৫ হাজার ৭৫৬ জন ভারতীয় অভিবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
কংগ্রেস সংসদ সদস্য মানিকরাম ঠাকুর বলেছেন, এই ঘটনা ভয়ঙ্কর ও লজ্জাজনক। আমেরিকা এমনভাবে ভারতীয়দের ডিপোর্ট করছে, দেখে মনে হচ্ছে তারা অপরাধী। এটা অমানবিক ও মেনে নেওয়া যায় না।
কংগ্রেসের আরেক সংসদ সদস্য শশী থারুরের মতে, বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকলে তাদের ডিপোর্ট করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের আছে। কিন্তু যেভাবে তারা ডিপোর্ট করেছে তা মেনে নেওয়া যায় না। সামরিক বিমানে হাতকড়া, পায়ে শিকল বেঁধে ভারতীয় ফেরত পাঠানো ভারতীয়দের প্রতি অপমান।
তৃণমূলের সংসদ সদস্য সাকেত গোখলে বলেছেন, আমরা বিশ্বের পঞ্চম সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ। কলম্বিয়ার মতো ছোট দেশ পর্যন্ত অভিবাসী ভর্তি সামরিক বিমান তাদের দেশে নামতে দেয়নি, তারা মর্যাদার সঙ্গে অভিবাসীদের দেশে ফেরাচ্ছে, সেখানে ভারত সরকার কী করছে?
জয়নঙ্কর আরও জানান, কেবল ভারতীয় নয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে অন্যদেরও এমন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যদিও দেশে ফেরত পাঠানোর সময় ভারতীয় অভিবাসীদের সঙ্গে যেন দুর্ব্যবহার না করা হয় এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানান জয়শঙ্কর।
তবে এমন বিবৃতির পর বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের অভিযোগ, হাতকড়া ও বেড়ি পরানো ভারতীয়দের ফেরত পাঠানোর রীতির প্রতিবাদও করেনি ভারত। এছাড়া কলম্বিয়া সরকারের মতো ভারত কেন নিজস্ব বিমান পাঠাল না, সে প্রশ্নও করা হয়। অনেকে মনে করছেন, মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগে এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করতে চায় না ভারত সরকার।