শিরোনাম :

শিক্ষার্থী আন্দোলনে উত্তাল ফ্রান্স: বন্ধ ৪০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আটক ২ হাজার

  • ০৮:১১ পিএম, শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

।। বিকে ডেস্ক ।।
শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের জেরে ফ্রান্সে প্রায় ৪০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহে রাজধানী প্যারিস থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ অবরোধ করে রেখেছে এবং পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই আন্দোলনে মূলত অংশ নিচ্ছে ফরাসি উচ্চবিদ্যালয় বা ‘লিসে’-এর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীরা, যাদের বয়স সাধারণত ১৫ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। শিক্ষার্থীদের মূল অভিযোগ, তাদের হাইস্কুলে মাত্রাতিরিক্ত সময় আটকে রাখা হয়। এছাড়া শ্রেণিকক্ষগুলো অতিরিক্ত গরম থাকা, অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অপর্যাপ্ততা এবং শিক্ষক ও কর্মচারীদের নিয়মিত অনুপস্থিতির মতো চরম অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদেই তারা রাস্তায় নেমেছে।

সরকার শিক্ষার্থীদের অভিযোগ যৌক্তিক বলে স্বীকার করলেও দেশজুড়ে চলমান সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে বারবার কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। শুক্রবার প্যারিসের দক্ষিণাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্তত দুটি হাইস্কুলের প্রবেশপথে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে, যা নেভাতে দমকল বাহিনীকে ডাকতে হয়।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে অভিযোগ করেছেন, কিছু সহিংসতাপ্রবণ গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে কুক্ষিগত করেছে। তিনি জানান, আন্দোলন শুরুর পর থেকে অন্তত ৬৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৪০ জনই প্রধান শিক্ষক। এছাড়া প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে এবং ১০০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। শিক্ষার্থীদের রাস্তায় না নামতে অভিভাবকদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

অন্যদিকে বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সন্তানদের ভাঙচুরের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির দায় অভিভাবকদেরই নিতে হবে এবং মেরামতের খরচ তাদেরকেই পরিশোধ করতে হবে। তিনি আরও জানান, আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের ৯০ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ছয় মাস আগে এই বিক্ষোভ রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় প্রভাব ফেলছে। সরকার অভিযোগ করেছে যে কট্টর বামপন্থী দল ‘ফ্রান্স আনবোড’ (এলএফআই) এই আন্দোলনের ইন্ধন জোগাচ্ছে, যদিও দলটি এই অভিযোগকে সরকারের ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শিক্ষামন্ত্রী আজ শিক্ষাবিষয়ক ট্রেড ইউনিয়ন ও হাইস্কুল শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছেন।

সুত্রঃ বিডি জার্নাল

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech