।।বিকে রিপোর্ট।।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষের সাত ঘণ্টা পর ক্যাম্পাসে এসেছে যৌথ বাহিনী।
রবিবার ৩১ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে ২য় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষের পর বিকেল ৪টার দিকে ক্যাম্পাসে আসেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
এর আগে সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন।
১৪৪ ধারা জারি করার নোটিশে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট বাজারের পূর্ব সীমা থেকে পূর্বদিকে রেলগেট পর্যন্ত রাস্তার উভয়পাশে সকাল সাড়ে ১১টায় স্থানীয় জনসাধারণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরস্পর মুখোমুখি ও আক্রমণাত্মক হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এখন উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।
এ অবস্থায় জনসাধারণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা ও শান্তি-শৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট বাজারের পূর্ব সীমা থেকে পূর্বদিকে রেলগেট পর্যন্ত রাস্তার উভয়পাশে দুপুর ২টা থেকে আগামীকাল সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারার আদেশ জারি করা হয়েছে।
উল্লেখিত এলাকায় সব প্রকার সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র ও সব প্রকার দেশি অস্ত্র ইত্যাদি বহনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৫ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে অবস্থান কিংবা চলাফেরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে আজকের সংঘর্ষের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রক্টরসহ ১৮০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে ৫৬ জন শিক্ষার্থীকে এবং একজনকে রাখা হয়েছে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)। রবিবার বিকেলে এ তথ্য জানা গেছে।
আইসিইউতে থাকা ওই শিক্ষার্থীর নাম নাঈম রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি স্ট্যাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হয়েছে।
সরেজমিনে চমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সাতটি বাস ও মিনিবাসে করে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগেরই মাথায়, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, আজ বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চবির ৫৬ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের বেশিরভাগই মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তবে একজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।