।।বিকে স্পোর্টস।।
ভারতকে হারিয়ে আবারও সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের খেলা ড্র হলে পরে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়। তাতে জিতে শিরোপা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ শিরোপা জিতল বাংলাদেশ।
শুক্রবার ৩ এপ্রিল মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে গোলশূন্য ড্র হয়। পরে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতেছে বাংলাদেশ।
টাইব্রেকারে শুরুটা দারুণ হয়েছে বাংলাদেশের। ভারতের প্রথম শটটি সেভ করেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক মাহিন। এরপর বাংলাদেশের হয়ে মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম নিজেদের শটে গোল আদায় করে নেন। তবে চতুর্থ শটে এসে স্যামুয়েলের প্রচেষ্টা ক্রসবারে লেগে ফেরত এলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-৩।
ভারতের শেষ শটটি যায় পোস্টের ওপর দিয়ে। তখন গোল করলেই শিরোপা, এমন সমীকরণ রোনান সুলিভান যখন টাইব্রেকারের শেষ শটটি নিতে দাঁড়ালেন, মালদ্বীপের মালের জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখন হাজারো প্রবাসী বাঙালির হৃৎপিণ্ড যেন ক্ষণিকের জন্য থমকে গিয়েছিল। বল জালে জড়ানোর পরপরই নিস্তব্ধতা ভেঙে গগনবিদারী উল্লাসে কেঁপে ওঠে মালের আকাশ।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা জাতীয় পতাকা নিয়ে মেতে ওঠেন বাঁধভাঙ্গা উল্লাসে। টুর্নামেন্টের নতুন তারকা প্রবাসী বাংলাদেশী ফুটবলার রোনান সুলিভান জার্সি খুলে গ্যালারির দর্শকদের দিকে ছুঁড়ে মারেন, প্রবাসীদের উচ্ছ্বাস যেন থামছিলই না। মুদ্রার উল্টো পিঠে ছিল বিষাদ।
মাঠের এক কোণে সারি বেঁধে বসে থাকতে দেখা যায় হারের হতাশায় ম্লান ভারতীয় তরুণদের। নির্ধারিত সময়ের লড়াইয়ে সমানে সমান লড়লেও টাইব্রেকারের ‘লটারি’তে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়েছে তাদের।
দক্ষিণ এশিয়ার অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলের রাজত্ব ধরে রাখার যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ দেশ ছেড়েছিল, সেই স্বপ্ন পূর্ণ হলো ফাইনাল শেষে।
এরআগে নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যনির্ধারণী টাইব্রেকারে। নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশই ছিল বেশি আক্রমণাত্মক। প্রথমার্ধে গোলের অন্তত দুটি নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করেছিল তারা। ১৩ মিনিটে রোনান সুলিভানের নিখুঁত ফ্রি-কিকে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীর হেড পোস্টে বাতাস লাগিয়ে বাইরে চলে যায়। ১৯ মিনিটে স্ট্রাইকার মানিকের বাড়ানো বলে রোনান ঠিকঠাক পা ছোঁয়াতে পারলে তখনই এগিয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী ধন্যবাদ দিলেন দর্শকদের, ‘এমন একটা জয় নিয়ে গর্ব করাই যায়। দেশের হয়ে শিরোপা জিততে পেরে বেশি ভালো লাগছে। দর্শকদের ধন্যবাদ, তাঁরা পুরোটা সময় আমাদের সমর্থন দিয়ে গেছেন’ অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই কোচ মার্ক কক্সের প্রথম টুর্নামেন্ট, প্রথম শিরোপা জয়ও।
ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে প্রথমার্ধে বাংলাদেশ দারুণ ফুটবল খেলেছে। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ভারতের দাপট ছিল বেশি। তবে বাংলাদেশের জমাট রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক মাহিন দৃঢ়তা দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি। পাল্টা আক্রমণেও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ, যদিও সেগুলো থেকে গোল আদায় করা সম্ভব হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে ডেকলান সুলিভানকে মাঠে নামানো হলে আক্রমণে গতি বাড়ে। ডান প্রান্ত দিয়ে কয়েকটি আক্রমণ তৈরিও করেন তিনি। শেষ মুহূর্তে রোনানকে দারুণ একটি পাস দিলেও গোলরক্ষকের বাধায় সেই সুযোগ নষ্ট হয়।
দুই অর্ধ জুড়েই লড়াই ছিল হাড্ডাহাড্ডি। বাংলাদেশ বক্সের আশেপাশে একাধিকবার আক্রমণে গেলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল পায়নি। অন্যদিকে ভারতও বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও বাংলাদেশের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।
শেষ দিকে রোনান ও ডেকলান সুলিভান দুই ভাই মিলে এমন চাপ সৃষ্টি করেন, যেটি ভারতীয় রক্ষণকে রীতিমতো দিশেহারা করে তোলে। ২০২২ সালে ভুবনেশ্বরে ভারতের কাছে ফাইনালে হারের পর অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ছেড়েছিলেন বাংলাদেশের তরুণরা। চার বছর পর কাল সেই একই মঞ্চে একই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধই নিল তারা।
মাঝে ২০২৪ সালে ভারতকে সেমিফাইনালে ও ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ জেতে বাংলাদেশ। বড়দের সাফে বাংলাদেশ দীর্ঘ ২৩ বছর শিরোপাহীন থাকলেও বয়সভিত্তিক ফুটবলে সাফল্যের এই ধারা দেশের ফুটবলকে আশার আলোই দেখাচ্ছে।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী বলছিলেন, ‘এমন একটা জয় নিয়ে গর্ব করাই যায়। দেশের হয়ে শিরোপা জিততে পেরে বেশি ভালো লাগছে। দর্শকদের ধন্যবাদ, তাঁরা পুরোটা সময় আমাদের সমর্থন দিয়ে গেছেন’।
কোচ মার্ক কক্সের উচ্ছ্বাস শিষ্যদের নিয়ে। বলেছেন, এই ফুটবলাররা হারতে শেখেনি। তারা কখনো হাল ছাড়ে না। আজও (গতকাল) তারা সেটাই করে দেখিয়েছে। তারা তাদের পতাকার জন্য খেলে।