।।বিকে রিপোর্ট।।
সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে দেশের সরকারি ও মহানগর-জেলা-উপজেলা সদরের বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ৩ লাখ শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার ১১ ডিসেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় লটারি কার্যক্রম শেষে এই তথ্য জানায় মাউশির মাধ্যমিক বিভাগের উপ-পরিচালক ও ঢাকা মহানগর ভর্তি কমিটির সদস্যসচিব মো. ইউনুছ ফারুকী।
তিনি জানান, এবারের ডিজিটাল লটারিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন মোট ৩ লাখ ৫ হাজার ৪৯৯ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সরকারি স্কুলে নির্বাচিত হয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৫২১ জন এবং বেসরকারি স্কুলে নির্বাচিত হয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৭৮ জন শিক্ষার্থী।
তবে বেসরকারি স্কুলগুলোর ১০ লাখের বেশি আসনের বিপরীতে আবেদন কম হওয়ায় খালি রয়ে গেছে প্রায় ৮ লাখ ৪৩ হাজার আসন।
ইউনুস ফারুকী বলেন, এখন দুটি অপেক্ষমাণ তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হবে। লটারির ফল নির্ধারিত ওয়েবসাইটে এবং যেকোনো টেলিটক মোবাইলের এসএমএসের মাধ্যমে জানা যাবে।
এবার সরকারি ৬৮৯টি স্কুলে ১ লাখ ২১ হাজার ৫৯৬টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ৭ লাখ ১৯ হাজার ৮৫৮ জন শিক্ষার্থী। লটারিতে নির্বাচিত ১ লাখ ৭ হাজার ৫২১ জনের বাইরে ১৪ হাজার ৭৫টি আসন এখনো ফাঁকা রয়েছে।
বেসরকারি স্কুলে শূন্য আসন ৮ লাখের বেশি
মহানগর, জেলা ও উপজেলা সদরের ৩ হাজার ৩৬০টি বেসরকারি স্কুলে ১০ লাখ ৭২ হাজার ৯১৭টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেন ৩ লাখ ৩৬ হাজার ১৯৬ শিক্ষার্থী। নির্বাচিত হন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৯৭৮ জন। ফলে বেসরকারি স্কুলগুলোতে ৮ লাখ ৪৩ হাজার ১৬০টি আসন খালি রয়ে গেছে।
ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ১৭ ডিসেম্বর। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ১৭ থেকে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভর্তি হতে পারবেন। এ প্রক্রিয়া চলবে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
নির্বাচিত তালিকা থেকে ভর্তি শেষে আসন শূন্য থাকলে প্রথম অপেক্ষমাণ তালিকা প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সব ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব জানান, গতবারের মতো এবারও দুটি অপেক্ষমাণ তালিকা থাকবে। ২২ থেকে ২৪ ডিসেম্বর প্রথম ওয়েটিং লিস্ট থেকে এবং ২৭ থেকে ৩০ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ওয়েটিং লিস্ট থেকে ভর্তি করানো হবে।
মাউশির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভর্তির সময় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে হবে। যাচাইকালে শিক্ষার্থীর জন্ম সনদের মুল কপি, অনলাইন কপি (প্রযোজ্যক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাই করতে হবে), পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি ভালো করে দেখতে হবে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ভর্তির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও আসেননি শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার। সকালেই সরকারি স্কুলের লটারি প্রক্রিয়া উদ্বোধন করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের কলেজ শাখার অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান মিয়া এবং উন্নয়ন শাখার অতিরিক্ত সচিব বেগম বদরুন নাহার। পরে বেসরকারি স্কুলের লটারি উদ্বোধন করেন প্রশাসন শাখার অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান।
ভর্তি নীতিমালায় থাকা কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে কোনো শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়ে থাকলে (যাচাই সাপেক্ষে) তাকে ভর্তি করা যাবে না। নীতিমালা ও মাউশির নির্দেশনা অনুসরণ না করে বিধিবর্হিভূতভাবে কাউকে ভর্তি করালে, তার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান দায়ী থাকবেন এবং তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
টেলিটক ডিজিটাল লটারি প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেয়। বিকেল পৌনে তিনটায় টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউনুস ফারুকীর হাতে ফলাফল হস্তান্তর করেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাউশির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক বিএম আব্দুল হান্নানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।