Breaking News:


শিরোনাম :

ঝটিকা মিছিলের জন্য দেওয়া হয় মাথাপিছু ৫ হাজার টাকা- নেতারা পান ১০ হাজার

  • ১২:০২ পিএম, রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫
ছবি: সংগৃহিত

।।বিকে রিপোর্ট।।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামীলীগ নেত্রী ভারতে পালিয়ে গেলেও ঝটিকা মিছিলের নামে নিজেদের উপস্থিতি জানন দিতে যেন মরিয়া।

বিগত ১৭ বছরের দূর্নীতি আর লুটপাটে জমানো অঢেল টাকা খরচ করে তারা নিজেরে উপস্থিতি, দেশকে অস্থিতিশীল ও আগামী নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চায়।

জানা গেছে, ঝটিকা মিছিলে অংশ নিলেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের পক্ষ থেকে প্রত্যেককে দেওয়া হচ্ছে ৫ হাজার টাকা।  বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেওয়া হয় অগ্রিম। নেতারা পাচ্ছেন ১০ হাজার টাকা।

সম্প্রতি কুমিল্লায় ঝটিকা মিছিলে অংশ নিয়ে আটক হওয়া নেতাকর্মীরা পুলিশকে এসব তথ্য দিয়েছে।

ওই টাকাদাতাদের মধ্যে রয়েছেন- কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পলাতক আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পলাতক রওশন আলী মাস্টার।

এ ছাড়া তাদের মতো আরও বেশ কয়েকজন টাকাদাতা রয়েছেন যাদের নাম এ মুহূর্তে প্রকাশ করেনি পুলিশ। তবে তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কুমিল্লায় কয়েকটি ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৬২ জন নেতাকর্মীকে গত দুই দিনে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে ২১ জন ও শুক্রবার রাতে আটক করা হয় ৫০ জনকে।

শনিবার ১ নভেম্বর কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. নজির আহমেদ ভূইয়া এসব তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে জননিরাপত্তা বিঘ্ন ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কুমিল্লায় আটক হওয়াদের কাছ থেকে আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার টাকা পাঠাচ্ছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে আগেই। শুক্রবার রাতে দেবিদ্বার উপজেলা থেকে আটক হওয়া ব্যক্তিরা ফের এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বেশির ভাগই ৫ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। আর নেতৃস্থানীয়রা পেয়েছেন ১০ হাজার টাকা করে।

আটককৃতদের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার নজির আহমেদ ভূইয়া বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা পলাতক থেকে তাদের নিজ এলাকায় অর্থ পাঠিয়ে সরকার পতনের জন্য ঝটিকা মিছিল করাচ্ছেন। একেবারে সংক্ষিপ্ত সময়ের এই মিছিলের অধিকাংশ সদস্য নিজেকে গোপন করতে রুমাল কিংবা মাস্ক দিয়ে মুখ ঢাকতে দেখা যায়।

নজির আহমেদ বলেন, টাকার বিনিময়ে করা মিছিলে কিছু কিছু নির্দলীয় ভাড়াটে লোকও রয়েছেন, যারা মাইক্রোবাস ও সিএনজিতে করে নিজ এলাকার বাইরে গিয়ে এই কাজ করেন।

আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানি কিংবা প্ররোচনা দিয়ে আত্মগোপনে থাকা কেউ কেউ মিছিল করতে ইন্ধন দিচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কুমিল্লা পুলিশ সুপার আরও বলেন, যেসব চ্যানেল বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হচ্ছে সেটিও আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। আটককৃতদের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ওসব চ্যানেল বা সিন্ডিকেটকে দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশের অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, শুধু কুমিল্লায় নয়, সারাদেশেই বিভিন্ন এলাকার নেতারা পলাতক থেকে টাকার বিনিময়ে ঝটিকা মিছিল ও বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার টানাচ্ছেন। এসব বিষয়ে পুলিশের জোর নজরদারি রয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech