।।বিকে ডেস্ক।।
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় ঘোষনা করা হয়।
সোমবার ১৭ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ফ্যাসিবাদ ও জুলুমের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক রায় হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক যৌথ বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সোমবার দুপুর ১২টায় দীর্ঘ ১৬ বছরের স্বৈরশাসন, জুলুম-নির্যাতন, গুম-খুন ও গণহত্যার দায়ে সাবেক ফ্যাসিস্ট শাসক শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত ঐতিহাসিক রায় দেশের জনগণের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচারের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এই রায়কে আল্লাহর ন্যায়বিচারের সুস্পষ্ট প্রকাশ হিসেবে মূল্যায়ন করছে।
খেলাফত মজলিসের নেতারা বলেন, বিগত ১৬ বছর এই ভূমি ভোগ করেছে নির্যাতন, গণহত্যা, দেশপ্রেমী নাগরিকদের কারাবন্দি, উলামায়ে কেরামের টার্গেটিং এবং স্বৈরশাসনের ভয়ানক শাসনের অধীনে। আজ সেই দুর্নীতিমূলক ও জুলুমপ্রবণ শাসনের হিসাব আদালতের কাঠগড়ায় প্রতিফলিত হয়েছে।
তারা বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছে— এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সবাই ধৈর্য, সংযম ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখুন। আজকের রায় দেশের রাজনীতিতে ন্যায়, সত্য ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে নতুন যুগের সূচনা হবে— এটাই আমাদের অটল বিশ্বাস।’
মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে যে গুম, খুন, ধর্ষণ হয়েছিল; মানবাধিকার, ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল, তার সবকিছুর বিচার আমরা আজ পেয়েছি। আমরা রায়কে স্বাগত জানাই। বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এই রায় মাইলফলক হয়ে থাকবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকে ঐতিহাসিক দিন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংগঠিত যে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছিল আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সেই রায় এসেছে। সেই রায়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়কে স্বাগত জানাই।
তিনি আরও বলেন, ১৬ জুলাই যেদিন আমার ভাই আবু সাঈদকে হত্যা করা হয়েছিল, সেদিনই আমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, এই হত্যার বিচার আমরা আদায় করেই ছাড়ব।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গুম এবং গণহত্যার দায়ে দণ্ডিত অপরাধী কেবল বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর ইতিহাসে নিকৃষ্টতম। খুনি, রক্তপিপাসু ফ্যাসিস্ট হিসেবে শেখ হাসিনা পরিচিতি লাভ করেছে। ফলে শেখ হাসিনার বিচারের মধ্য দিয়ে শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে যত স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট শাসক রয়েছে, তার বিচারের এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
এ সময় একমাসের মধ্যে রায় কার্যকর করার জন্য সময় বেঁধে দেন অভ্যুত্থানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এ নেতা।
নাহিদ বলেন, আমরা এটি দাবি জানাচ্ছি যে আমাদের শেখ হাসিনার এই রায়কে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর করতে হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত এনে এই রায় কার্যকর করতে হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায়কে ঐতিহাসিক এবং শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের বিজয়ের ইতিহাসের রায় বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি(এবি পার্টি)।
সোমবার রায়ের পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
তিনি বলেন, অহংকার পতনের মূল’; ‘সত্য সমাগত মিথ্যা অপসৃত’; ‘চোরের দশদিন গৃহস্থের একদিন’— এসবকে যারা এতদিন শুধু নীতিবাক্য মনে করতেন, বা মনকে ‘প্রবোধ দেয়ার শব্দগুচ্ছ’ ভাবতেন। তারা আজ বুঝতে পারছেন এসব নীতিবাক্য বার বার ঐতিহাসিকভাবে সত্য প্রমাণিত।
তিনি আরও বলেন, মনে রাখতে হবে এসব শব্দগুচ্ছ শুধু অতীত জালেমদের জন্য নয়, ভবিষ্যতে যদি কেউ জালেম হোন তাদের জন্যও সত্য হয়ে ফিরে আসবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বলেছে, ‘ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়েছে, এই রায় দেশে স্বৈরতন্ত্র রোধে মাইলফলক হয়ে থাকবে’।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘোষিত রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিফলিত হয়েছে। মজলুম জনতার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এই রায় আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের মাইলফলক হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে জনতার ওপরে দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে এই রায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে কাজ করবে বলেই আমরা প্রত্যাশা করি। আইনের নিজস্ব গতি ও ধারাতেই সব অপরাধের বিচার হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা সরকারের কাছে আহ্বান করবো, রায় ঘোষিত হওয়ার পরে এখন আবশ্যকিয় সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুততার সঙ্গে রায় বাস্তবায়ন করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, আজকের দিন আমাদের জন্য আনন্দের দিন। এই দিনে আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করবো। দেশবাসী কাউকে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতেও দেবে না এবং আইন হাতে তুলে নেওয়ার মতো কোনো কাজ কেউ করবো না। আল্লাহ তায়ালা বাংলাদেশকে শান্তিময় করে তুলুন।