Breaking News:


শিরোনাম :
নিজেদের জলদস্যু বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপান গেলেন জামায়াত আমির ঢাকা-সিলেট রুটে ‘সড়ক ও রেল’ যোগাযোগ উন্নত করা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের শপথ রোববার সারাদেশে হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত বাড়ছেই বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম শৃঙ্গ জয় করলেন পর্বতারোহী বাবর আলী সিলেট সফরের শুরুতেই হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বারের নির্বাচনে বিএনপিপন্থি প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে চলে গেল বৃহৎ মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে সুদের হার কমাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাড়ল ঋণের সীমা

কৃষক কার্ড – পহেলা বৈশাখে বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন- সাধারণ জিজ্ঞাসা ও উত্তর

  • ১২:৪৬ পিএম, সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬
ছবি : কোলাজ বিকে,

।।বিকে বিশেষ প্রতিবেদন।।
আগামী পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রবিবার ১৫ মার্চ কৃষক কার্ডবিষয়ক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি জানান, সকালে সংসদ সচিবালয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে কৃষক কার্ড বিষয়ক বৈঠক হয়। বৈঠকে আগামী পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে কৃষি মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ও প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষক কার্ড কি?
কৃষক কার্ড হলো একটি ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড, যার মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি ভর্তুকি, সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন ও ক্ষুদ্র কৃষকরা প্রায় ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক প্রণোদনা সরাসরি ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া এটি ফসলের উৎপাদন তথ্য ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা করবে।

কৃষক কার্ডের প্রধান সুবিধাসমূহ:
সরাসরি সহায়তা: ভর্তুকি, বীজ, সার ও কিটনাশক সরাসরি কৃষকের হাতে বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসবে, যা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাবে।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা সহজে ব্যাংকিং সেবা ও কম সুদে ঋণের সুবিধা পাবেন।

ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার: কৃষকের জমির আয়তন, ফসলের ধরন ও প্রোফাইল সংরক্ষিত থাকবে।

স্মার্ট কৃষি সেবা: আবহাওয়া বার্তা, ফসলের বাজার দর ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।

সহজ পরিচয়পত্র: এটি কৃষকদের সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য একটি স্বতন্ত্র ও নির্ভরযোগ্য পরিচয়পত্র।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা দুর্যোগকালীন সহায়তা এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শও পাবেন

দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় আনতে প্রাথমিকভাবে ৮টি বিভাগের ৯টি উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু হতে যাচ্ছে। গত ৪ মার্চ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আগামী ১৪ এপ্রিল (বাংলা নববর্ষের দিনে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

প্রাক-পাইলট পর্যায়ের কার্যক্রম
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানান, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচিত এলাকাগুলোর সব শ্রেণির কৃষকের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করা হবে। প্রাক-পাইলট পর্যায়ের এই তথ্য সংগ্রহের পর ৯টি উপজেলার ৯টি নির্দিষ্ট ব্লকে এই কার্ড বিতরণ শুরু হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরবর্তী চার বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
কৃষক কার্ডে কী কী সুবিধা পাবেন?

এই ডিজিটাল কার্ডটি কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়, এটি কৃষকদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতীক। এর মাধ্যমে কৃষকরা পাবেন:

সরাসরি আর্থিক সহায়তা: ভূমিহীন ও ক্ষুদ্র কৃষকরা গড়ে ২,৫০০ টাকা করে সরাসরি নগদ সহায়তা বা উপকরণ ভর্তুকি পাবেন।

ভর্তুকি ও উপকরণ: কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ সংগ্রহ করা যাবে।
সহজ শর্তে কৃষি ঋণ: কার্ডধারীরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ এবং অন্যান্য ঋণ সুবিধা পাবেন।

ডিজিটাল পরামর্শ: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়ার আপডেট, বাজার দর এবং ফসলের রোগবালাই দমনে সরাসরি বিশেষজ্ঞ পরামর্শ পাওয়া যাবে।

কৃষক কার্ডের নির্বাচিত ৯টি উপজেলার তালিকা :
প্রাথমিক পর্যায়ে যে ৯টি উপজেলায় এই ডিজিটাল কৃষি কার্ড বিতরণ করা হবে সেগুলো হলো-
ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল সদর, ময়মনসিংহ বিভাগের জামালপুরের ইসলামপুর, রাজশাহী বিভাগের বগুড়ার শিবগঞ্জ, রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় সদর, খুলনা বিভাগের ঝিনাইদহের শৈলকুপা, বরিশাল বিভাগের পিরোজপুরের নেছারাবাদ, সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের জুড়ী ও চট্টগ্রাম বিভাগের টেকনাফ, কুমিল্লা সদর।

কৃষি কার্ড সংক্রান্ত সাধারণ জিজ্ঞাসা-

প্রশ্ন: কৃষি কার্ড বা কৃষক কার্ড আসলে কী?
উত্তর: এটি একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ সম্বলিত স্মার্ট কার্ড, যার মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করা হয় এবং সরকারি সব ধরণের কৃষি সহায়তা সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

প্রশ্ন: প্রাথমিকভাবে কোন ৯টি উপজেলায় এই কার্ড চালু হচ্ছে?
উত্তর: টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর ও কক্সবাজারের টেকনাফ।

প্রশ্ন: এই কার্ডের প্রধান সুবিধাগুলো কী কী?
উত্তর: সরাসরি সরকারি ভর্তুকি, সার, বীজ ও কীটনাশক সহায়তা এবং সহজ শর্তে কৃষি ঋণ পাওয়া নিশ্চিত করা।

প্রশ্ন: কৃষি কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহ কবে শুরু হবে?
উত্তর: সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচিত ৯টি উপজেলার সব শ্রেণির কৃষকের তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

প্রশ্ন: কৃষি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন কবে?
উত্তর: আগামী ১৪ এপ্রিল ২০২৬ (পহেলা বৈশাখ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই কর্মসূচি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

প্রশ্ন: আমি কি আমার উপজেলার বাইরে থেকে আবেদন করতে পারব?
উত্তর: না, প্রাথমিকভাবে শুধুমাত্র নির্বাচিত ৯টি উপজেলার কৃষকরাই এই সুবিধার আওতায় আসবেন। পর্যায়ক্রমে ৪ বছরের মধ্যে সারা দেশে এটি চালু হবে।

প্রশ্ন: কৃষি কার্ড পেতে কী কী কাগজপত্র লাগবে?
উত্তর: সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জমির খতিয়ান বা পর্চা এবং সচল একটি মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হয়।

প্রশ্ন: ভাড়াটে বা বর্গা চাষিরা কি এই কার্ড পাবেন?
উত্তর: হ্যাঁ, ‘সব শ্রেণির কৃষক’ শব্দটির মাধ্যমে প্রকৃত চাষি ও বর্গা চাষিদেরও এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রশ্ন: এই কার্ডের মাধ্যমে কি সরাসরি টাকা পাওয়া যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রে সরকারি নগদ প্রণোদনা সরাসরি কৃষকের কার্ড সংশ্লিষ্ট ব্যাংক একাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে চলে আসবে।
প্রশ্ন: তথ্য সংগ্রহের জন্য কোথায় যেতে হবে?
উত্তর: উপজেলা কৃষি অফিস বা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। আপনি স্থানীয় কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেন।

প্রশ্ন: কৃষি কার্ড কি সারাজীবনের জন্য কার্যকর থাকবে?
উত্তর: এটি একটি স্থায়ী ডিজিটাল রেকর্ড, তবে নির্দিষ্ট সময় অন্তর তথ্য আপডেট করার প্রয়োজন হতে পারে।

প্রশ্ন: এই কার্ড থাকলে কি ঋণের সুদ কম লাগবে?
উত্তর: কার্ডধারী প্রকৃত কৃষকরা সরকারি বিশেষ কৃষি ঋণের আওতায় কম সুদে বা বিনা সুদে ঋণ পাওয়ার অগ্রাধিকার পাবেন।

প্রশ্ন: স্মার্ট কার্ড আর কৃষি কার্ড কি একই?
উত্তর: না, স্মার্ট কার্ড আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র। আর কৃষি কার্ড শুধুমাত্র কৃষি খাতের সুযোগ-সুবিধার জন্য তৈরি একটি বিশেষ কার্ড।

প্রশ্ন: কৃষি কার্ড হারিয়ে গেলে কী করতে হবে?
উত্তর: কার্ড হারিয়ে গেলে নিকটস্থ উপজেলা কৃষি অফিসে আবেদন করে পুনরায় ডুপ্লিকেট কার্ড সংগ্রহ করা যাবে।

প্রশ্ন: সারা দেশে এই কর্মসূচি কবে নাগাদ শেষ হবে?
উত্তর: সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আগামী ৪ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের সকল উপজেলায় কৃষি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech