Breaking News:


ট্রাম্পের সামনে ইরান যুদ্ধের দুই বিপজ্জনক পথ

  • ১২:৪৮ পিএম, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬

।। বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।
ডনাল্ড ট্রাম্প নিজের খেয়ালে ইরানের সঙ্গে যে যুদ্ধ বাধিয়েছেন, তা দুই সপ্তাহ যেতে না যেতেই কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়ে গেছেন তিনি

ইরানের শাসকগোষ্ঠী উৎখাতের যে ঘোষণা ট্রাম্প জোরগলায় দিয়েছিলেন, সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে তিনি কি যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন, নাকি ক্রমে বিস্তৃত হতে থাকা এই সংঘাত থেকে সরে দাঁড়াবেন?

নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট দ্রুতই বুঝতে পেরেছেন, তার সামনে থাকা দুটো পথই বিপদে ভরা।

এখন ট্রাম্পের চোখের সামনে এমন অনেক পরিণতই ভেসে উঠছে, যেগুলো তিনি ইরানে হামলা শুরুর আগে একনজর দেখার প্রয়োজনও বোধ করেননি। দুর্বল হয়ে পড়া একটি শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য হয়ত ট্রাম্পের আছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ ইরান ঠিকই সৃষ্টি করতে পেরেছে।

তারা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজন দেশে হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে। ইরানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মানে হলো, মার্কিনিদের আরো রক্ত ঝরা; আরো অর্থ খরচ হওয়া এবং মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়া।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যেও উদ্বেগ ও মতপার্থক্য রয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোনো যুদ্ধে না জড়ানোর যে অঙ্গীকার ট্রাম্প করেছিলেন, তা তিনি রাখতে পারেননি।

ট্রাম্পের সামনে আরেকটি পথ আছে, সেটি ধীরে ধীরে পিছু হটার। সেক্ষেত্রে ইরান নিয়ে তার লক্ষ্য অধরাই থেকে যাবে।মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলি বাহিনীর সবচেয়ে বড় সামরিক সাফল্য হলো, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেকটা দুর্বল করে দিতে পেরেছে।

আরেকটি অর্জন হলো, প্রায় ৪০ বছর ধরে ইরানের নেতৃত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে তারা হত্যা করতে পেরেছে। তবে এসব অর্জনের পরেও বাস্তবতাটা হলো, ইরানে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রই ক্ষমতায় রয়ে গেছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প যদি যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়ান, তাহলে আরেকটি বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে ইরানের হাতে থাকা পারমাণবিক বোমা তৈরির রসদ।অনেকের ধারণা, তেহরানের কাছে যে পরিমাণ রসদ রয়েছে, তা দিয়ে ১০টি বা তার বেশি পারমাণবিক অস্ত্র বানানো সম্ভব।

যুদ্ধ শুরুর সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক গভীরে মজুদ করা ওই রসদ উদ্ধার করতে স্থল অভিযান প্রয়োজন হতে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

যুদ্ধে যত সময় গড়াচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের খরচের তালিকাও তত দীর্ঘ হচ্ছে। এরই মধ্যে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। আর মোট নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ হাজার ১০০ জন, যাদের অধিকাংশই ইরানের নাগরিক।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল হুমকির মুখে পড়া নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, যুদ্ধ শুরুর পর গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যের বড় একটি অংশ, বিশেষ করে তেলের বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি নির্বিঘ্ন রাখতে শনিবারের মধ্যে ওই এলাকায় নৌবাহিনী মোতায়েন করতে চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেনকে আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।

সমুদ্রপথটি খোলা রাখতে ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যে যথেষ্ট নয়, অন্যান্য দেশের সহায়তা চেয়ে ট্রাম্প মূলত সেটাই স্বীকার করে নিলেন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ট্রাম্প যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ও শেষ করা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেছেন। কখনো তিনি যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, কখনো আবার বলছেন, ‘যুদ্ধ এখনো অনেক বাকি’।

সূত্রঃ বিডি জার্নাল ট্রাম্পের সামনে ইরান যুদ্ধের দুই বিপজ্জনক পথ

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech