।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল ভোরে সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি টেলিগ্রামে দেয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেছে, আমাদের দেশ ও জনগণের ওপর ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই পাল্টা জবাব অব্যাহত থাকবে।
এর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবানন জুড়ে নতুন করে তুমুল বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এর মধ্যে অনেক হামলা এমন সব স্থানে চালানো হয়েছে, যেসব এলাকা হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, বরং বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা বলে মনে করা হয়। দিনভর চলা এই রক্তক্ষয়ী হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন আল-জাজিরাকে বলেন, বৈরুত ও অন্যান্য এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলার পর হাসপাতালগুলোতে নিহত ও আহতদের ভিড়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
লেবাননের রাজধানী বৈরুত, বেকা ভ্যালি এবং দক্ষিণ লেবানন জুড়ে ১০ মিনিটের ব্যবধানে অন্তত ১০০ হিজবুল্লাহ কমান্ড সেন্টার ও অন্যান্য সামরিক অবকাঠামোয় বোমা হামলা চালানো হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ।
লেবাননে ইসরায়েলের এই হামলার জেরে যুদ্ধবিরতি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটি বলেছে, লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করতে থাকলে তারা এ থেকে বেরিয়ে যাবে।
প্রসংগত, বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। এতে সমর্থন জানায় ইসরায়েল। তবে তারা জানিয়ে দেয়, এই যুদ্ধবিরতি ইরানে কার্যকর হবে, লেবাননে নয়। যদিও যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সহযোগিতা করা ইরান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী- দুইজনই বলেছিলেন, এই চুক্তির আওতায় লেবাননও রয়েছে।
তবে এই দাবি অস্বীকার করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দক্ষিণ লেবাননে বুধবার সকালে ব্যাপক বিমান হামলা চালয় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।
হিজবুল্লাহর এক আইনপ্রণেতা বলেন, ইসরায়েলকেও যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে হবে নতুবা তাদের পতন ঘটবে। তবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হামলার নির্দেশ দেয়।
সূত্র: আল–জাজিরা