।।বিকে রিপোর্ট।।
প্রশাসনের তাৎক্ষণিক অভিযানে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী এক তরুণীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিয়ের জন্য প্রস্তুতকৃত খাবার জব্দ করে তা স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার ১০ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় উপজেলার কসবা পৌরসভার বগাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার কসবা পৌরসভার বগাবাড়ি এলাকায় সাওদা আক্তার লামিয়া নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর বাল্যবিবাহের আয়োজন চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবিরের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। এ সময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার প্রতিনিধি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের তদন্তে জানা যায়, লামিয়ার জন্মসনদ অনুযায়ী তার বয়স ১৬ বছর ৬ মাস এবং সে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। আইন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় তার বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী কিশোরীর বাবা সেন্টু মিয়াকে (৪৫) ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তিনি মেয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে লিখিত মুচলেকা দেন। অভিযানকালে বিয়ের জন্য প্রস্তুতকৃত খাবার জব্দ করে স্থানীয় আড়াইবাড়ী এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।
এ বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির বলেন, ‘বাল্যবিবাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এটি একটি মেয়ের স্বাভাবিক বিকাশ ও শিক্ষাজীবনকে বাধাগ্রস্ত করে। প্রশাসন এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। বাল্যবিবাহরোধে অভিভাবকসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।