।।বিকে রিপোর্ট।।
বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডকে ‘করুণ ও হৃদয়বিদারক ঘটনা’ বর্ণনা করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৃষ্টির পরিবার যে গভীর শোকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা সরকার উপলব্ধি করে। বৃষ্টি হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
শনিবার ৯ মে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে বৃষ্টির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এমিরেটসের ইকে–০২২০ ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। মরদেহ বিমানে তোলার সময় অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে এমিরেটসের ইকে–০৫৮২ ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যার শিকার নাহিদা সুলতানা এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে বৃষ্টির বাবা, মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত আছেন। আমি বৃষ্টির পরিবার, স্বজন ও বন্ধুদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং বৃষ্টির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তার মা–বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা।
বিমানবন্দর থেকেই এবার কফিনবন্দি নিথর মরদেহ নিয়ে বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে নিয়ে যাচ্ছেন পরিবার। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে মাদারীপুরের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহবাহী গাড়িটি গ্রামের বাড়ির পথে রওনা দেয়।
এ সময় বৃষ্টির বাবা, মা, ভাই, মামা, নানা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কফিন গ্রহণের পর স্বজনদের অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়েন, কেউ কেউ কফিন ছুঁয়ে শেষবারের মতো বৃষ্টিকে বিদায় জানান। এ সময় মায়ের আহাজারি থামছিল না। বারবার তিনি কাঁদতে কাঁদতে মেয়ের নাম ধরে ডাকছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ সরাসরি মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে বাদ আসর নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে দাদা–দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।