ফ্রান্সে বড় বিক্ষোভ : একদিনে আহত ৫৩ পুলিশ, গ্রেপ্তার ৪৪৮ জন বিক্ষোভকারী

  • ০১:১৯ পিএম, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

।। বিকে ডেস্ক ।।
জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, বেতন বা মজুরির বৃদ্ধি থেমে থাকা এবং জনকল্যাণ খাতে সরকারি ব্যয় হ্রাসের প্রস্তাবের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ফের ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে ফ্রান্সজুড়ে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ৬ লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন শনিবারের বিক্ষোভে।

আর ফ্রান্সের বৃহত্তম ট্রেড ইউনিয়ন সংস্থা জেনারেল কনফেডারেশন অফ লেবার’ (সিজিটি)-এর তথ্য অনুযায়ী ২০০টিরও বেশি স্থানে আয়োজিত এসব বিক্ষোভে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন, যার মধ্যে শুধু রাজধানীতেই ছিলেন ৩ লাখ ৫০ হাজার জন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি অবশ্য তাদের প্রতিবেদনে কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেনি, তবে জানিয়েছে যে চলমান বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর দিনগুলোর তুলনায় বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে জমায়েতের হার অনেকগুণ বেশি ছিল।

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে স্কুল ও হাইস্কুলগুলোর অবকাঠামো সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাছি থেকে ফ্রান্সে বিক্ষোভ শুরু করে জুনিয়র ও হাইস্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। পরবর্তী দিনগুলোতে শিক্ষা-সংস্কারের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস, মজুরি বৃদ্ধি প্রভৃতি দাবি নিয়ে এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে থাকেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ।

বরাবরের মতো বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভেও অগ্রসর বাহিনী ছিলেন হাইস্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা; আর তাদের নেতৃত্বে অংশ নিয়েছেন শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, রেলকর্মী ও অন্যান্য পেশাজীবিরা।

বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে একটি বিবৃতি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়, বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভকারীদের হামলায় ফ্রান্সজুড়ে ৫৩ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য আহত হয়েছেন, ৮৬টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং আইনভঙ্গ, সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি ও পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর অভিযোগে ৪৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিজিটি’র মহাসচিব সোফি বিনে এই বিক্ষোভকে অত্যন্ত কার্যকর উল্লেখ করে বলেছেন, “জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, বাসাভাড়, গ্যাস, বিদ্যুৎ– সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, বাড়ছে না কেবল মজুরি-পেনশন। সরকারকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে আমাদের থামানো যাবে না।”

সাক্ষাৎকারে সব শ্রমিক-পেশাজীবিদের মজুরি বৃদ্ধি এবং ন্যূনতম মজুরি ১০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সোফি বিনে।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু আগামী ৯ নভেম্বর (সোমবার) ম্যাটিগননে (ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর) ট্রেড ইউনিয়ন ও নিয়োগকর্তা সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

গত প্রায় দেড় মাস ধরে চলতে থাকা এ বিক্ষোভের কারণে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী,  ফ্রান্সের ১৮৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৬০টিতে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। শিক্ষা খাতের শ্রমিক-পেশাজীবিদের অধিকার আদায় সংস্থা এসএনইএস-এফএসইউ ইউনিয়ন জানিয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্মীদের মধ্যে ৫২ শতাংশ এ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিস ও বোর্দোসহ বেশ কয়েকটি শহরে শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচির বিরুদ্ধে পুলিশ হস্তক্ষেপ করেছে।

শিক্ষা ব্যবস্থার পরিস্থিতি, অর্থায়ন এবং কর্মী সংকট নিয়ে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার্থীদের যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতাতেই এই বিক্ষোভগুলো অনুষ্ঠিত হলো।

সূত্র : এএফপি, আনাদোলু এজেন্সি

সোস্যাল মিডিয়াতে নিউজটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন
© All rights reserved © 2025. Bangalir Khobor
Developed by Tiger Infotech