সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে হাত দিলে বিএনপি ক্ষমতা হারাবে।
আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপিতে গুপ্ত-র সংখ্যা অনেক বেশি।
-ম,ম,বাসেত
॥ মোঃ মাহবুবুল বাসেত ॥
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে হাত দিলে বা ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনলে বা ৭০ অনুচ্ছেদ বাদ দিলে বিএনপি ক্ষমতা হারাবে। কারণ আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপিতে গুপ্তের সংখ্যা অনেক বেশি। ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করলে বা সংবিধান থেকে ৭০ অনুচ্ছেদ বাদ দিলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পরবে। দেখা যাবে জানুয়ারিতে একদলের সরকার ক্ষমতায় আছেন আবার ডিসেম্বরে দেখা যাবে আর এক দলের সরকার ক্ষমতায় এসে গেছে।
এদিকে বাংদেশের ৭০ অনুচ্ছেদের মতই ভারতের সংবিধানের ১০২ ও ১০ম তফসিল ও পাকিস্তানের সংবিধানের ৬৩(এ) অনুচ্ছেদ হচ্ছে ফ্লোরক্রসিং সংক্রান্ত। তিনটি দেশের মধ্যে বাংদেশের ৭০ অনুচ্ছেদেই “ভোটদান থেকে বিরত থাকলে” সদস্যপদ হারানোর কথাটি নেই। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের ফ্লোরক্রসিং অনুচ্ছেদের আলেকে কারোর সদস্যপদ থাকবে কি থাকবে না, এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন দেশদুটির স্পিকার। আর পাকিস্তান-এর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেবেন পার্টি প্রধান।
প্রসঙ্গ বাংলাদেশঃ
বাংলাদেশের সংবিধান অনুচ্ছেদ-৭০
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে ফ্লোর ক্রসিং বা সংসদে সরকারী দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোটদানকে নিষিদ্ধ করা হয়নি বরং বিপক্ষে ভোটদিলে সদস্যপদ বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে। কোন ব্যক্তি কোন দলের মনোনয়ন ও প্রতিক নিয়ে নির্বাচিত হওয়ায় ঐদলের প্রত্যাসা থাকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে সংসদের বৈঠকে ভোট দিবেন না, দলের সিদ্ধান্তের পক্ষেই ভোট দিবেন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে দলের সিদ্ধান্তের পক্ষে বা বিপক্ষে কোন সদস্যের ভোটদানের অধিকার কে হরণ করা হয়নি। বিষয়টি তার ইচ্ছা/পছন্দের উপর ছেরে দেয়া হয়েছে। তিনি দলের সিদ্ধান্তের পক্ষে ভোটদিলে তার সদস্যপদ বহাল থাকবে আর বিপক্ষে ভোটদিলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে। এক্ষেত্রে সদস্যপদ বাতিল করতে হলে সংসদিয় দলের পক্ষথেকে স্পিকারকে লিক্ষিতভাবে বিষয়টি অবহিত করতে হবে এবং এর পর স্পিকার যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার সদস্যপদ বাতিল করবে। কোন সদস্য এই ঝুকিনিলে এবং তার সদস্যপদ বাতিল হয়েগেল তিনি আবার উপনির্বাচন/নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসতে পারবেন।
বাংলাদেশের সংবিধান
অনুচ্ছেদ-৭০
“
কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-
(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা
(খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।
”
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ব্যাপরে এখন পর্যন্ত কোন বিরোধ সৃস্টি না হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টে রায় বা ব্যাখ্যা পওয়া যায়নি।
তবে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পৃথক পৃথক রায়ে ফ্লোর ক্রসিং সংশ্লিষ্ঠ বিষয়ে সিদ্ধান্ত/মতামত দিয়েছেন।
প্রসঙ্গ ভারতঃ
বাংদেশের ৭০ অনুচ্ছেদের মতই ভারতের সংবিধানে ১০২ (২) ও ১০ম তফশিল হচ্ছে ফ্লোরক্রোসিং বা সংসদের বৈঠকে সরকারি দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোটদান সংক্রান্ত।
ভারতের সংবিধান-এর অনুচ্ছেদ-১০২ (২) বলা আছে-
“কোনো ব্যক্তি সংসদের যেকোনো একটি কক্ষের সদস্য থাকার ক্ষেত্রে অযোগ্য হবেন, যদি তিনি Tenth Schedule (১০ম তফসিল)-এর অধীনে অযোগ্য ঘোষিত হন।”
Tenth Schedule-
১০ম তফসিল (Tenth Schedule)ঃ
দলত্যাগের (Defection) কারণে অযোগ্যতা সম্পর্কিত বিধান
১. … প্রযোজ্য নয়।
২. দলত্যাগের কারণে অযোগ্যতা
(১) রাজনৈতিক দলের সদস্যের ক্ষেত্রে-
কোনো রাজনৈতিক দলের অন্তর্ভুক্ত কোনো সদস্য নিম্নলিখিত কারণে কক্ষের সদস্য থাকার জন্য অযোগ্য হবেন—
(ক)… প্রযোজ্য নয়।
(খ) যদি তিনি তাঁর রাজনৈতিক দল বা দল কর্তৃক অনুমোদিত কোনো ব্যক্তি/কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দেশনার বিরুদ্ধে ওই কক্ষে ভোট দেন বা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন, এবং আগে থেকে দলের/অনুমোদিত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নেন; এবং পরবর্তীতে ওই দল, ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ ভোট দেওয়া বা ভোটদানে বিরত থাকার বিষয়টি ১৫ দিনের মধ্যে ক্ষমা বা অনুমোদন (condone) না করে।
৩. … প্রযোজ্য নয়।
৪. … প্রযোজ্য নয়।
৫. … প্রযোজ্য নয়।
৬. দলত্যাগের কারণে অযোগ্যতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত
(১) সিদ্ধান্ত কে নেবেন?
কোনো সদস্য Tenth Schedule-এর অধীনে অযোগ্য হয়েছেন কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কক্ষের—
Chairman, অথবা Speaker এর সিদ্ধান্তের জন্য পাঠানো হবে এবং তাঁর সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হবে।
তবে যদি প্রশ্নটি Chairman বা Speaker নিজেই অযোগ্য হয়েছেন কি না—এ বিষয়ে হয়, তাহলে কক্ষের নির্বাচিত অন্য কোনো সদস্য সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
(ভারতে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ঠ সংসদ বিদ্যমান, ভারতে রয়েছে ফেডারেল পদ্ধতির সরকার, দেশটির সংসদের নিম্মকক্ষের নাম লোকসভা এবং উচ্চ কক্ষের নাম রাজ্যসভা)
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ঃ
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের Article 102 এবং Tenth Schedule (Anti-Defection Law)-সংক্রান্ত একটি ভিত্তিমূলক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো
Kihoto Hollohan v. Zachillhu (1992) মামলার রায়।
এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট Tenth Schedule-এর সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখে। তবে আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করে যে, দলত্যাগের কারণে কোনো সদস্যকে অযোগ্য ঘোষণা করার ক্ষেত্রে Speaker-এর সিদ্ধান্ত Judicial Review-এর অধীন হতে পারে।
এই রায়ের মাধ্যমে আদালত সাধারণ অযোগ্যতা (General Disqualification) এবং দলত্যাগজনিত অযোগ্যতা (Defection-based isqualification)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরী পার্থক্য নির্ধারণ করে।
Article 102(1) ও Article 103 → সাধারণ অযোগ্যতার বিষয়। যেমন—Office of Profit, বিদেশি নাগরিকত্ব, দেউলিয়াত্ব ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে অযোগ্যতার প্রশ্নে রাষ্ট্রপতি (President) সিদ্ধান্ত নেন এবং তার আগে Election Commission-এর মতামত নিতে হয়।
Article 102(2) ও Tenth Schedule → দলত্যাগজনিত অযোগ্যতার বিষয়। এ ক্ষেত্রে অযোগ্যতার প্রশ্নের সিদ্ধান্ত সাধারণত সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কক্ষের Speaker বা Chairman গ্রহণ করেন।
অতএব, Kihoto Hollohan (1992) মামলার মূল গুরুত্ব হলো—Tenth Schedule-এর Anti-Defection Law বৈধ থাকলেও Speaker-এর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে আদালতের এখতিয়ারের বাইরে নয়; উপযুক্ত ক্ষেত্রে তা Judicial Review-এর আওতায় আসতে পারে।
(ভারতের একটি রাজ্যের ফ্লোরক্রসিং মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট, দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে প্রদত্য ভোট কাউন্ট না করার পক্ষে মতামত দিয়েছেন বলে মনে পরছে কিন্তু এই মুহুর্তে বিষয়টির ব্যপারে নিশ্চিত হতে না পারায় এখানে বিস্তারিত বলা সম্ভব হলো না।)
প্রসঙ্গ পাকিস্তানঃ
পাকিস্তানের সংবিধানের ৬৩(এ) অনুচ্ছেদ হচ্ছে ফ্লোরক্রসিং সংক্রান্ত
বাংদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এবং ভারতের সংবিধানের ১০২ ও ১০ম তফসিল-এর মতই পাকিস্তানের সংবিধানের ৬৩(এ) অনুচ্ছেদটি হচ্ছে ফ্লোরক্রসিং সংক্রান্ত-
অনুচ্ছেদ ৬৩(এ)ঃ
“
দলত্যাগের (Defection) কারণে অযোগ্যতা-
৬৩ (এ) (১) (খ) কোন সদস্য যদি Parliamentary Party-এর নির্দেশনার বিরুদ্ধে ভোট দেন বা ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন, এবং বিষয়টি যদি নিম্নলিখিত কোনো বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়—
-Prime Minister বা Chief Minister নির্বাচন;
-Vote of Confidence বা Vote of No-Confidence;
-Money Bill বা Constitution (Amendment) Bill;
তাহলে তাঁকে রাজনৈতিক দল থেকে দলত্যাগী (defected) হিসেবে ঘোষণা করা যেতে পারে।
এই ঘোষণা Party Head লিখিতভাবে করবেন এবং এর একটি কপি—
Presiding Officer, Chief Election Commissioner এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যের কাছে পাঠাবেন।
তবে ঘোষণা দেওয়ার আগে Party Head-কে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে কারণ দর্শানোর (show cause) সুযোগ দিতে হবে—কেন তাঁর বিরুদ্ধে এমন ঘোষণা দেওয়া হবে না।
Party Head বলতে রাজনৈতিক দল কর্তৃক যে ব্যক্তিকে Party Head হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁকে বোঝাবে।
”
(পাকিস্তানে রয়েছে ফেডারেল পদ্ধতির সরকার, এদেশে আছে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ঠ পার্লামেন্ট, নিম্ন কক্ষের নাম পাকিস্তার জাতীয় পরিসদ এবং উচ্চ কক্ষের নাম সিনেট)
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট-এর রায়/ব্যাখ্যাঃ
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট-এ এই পর্যন্ত তিন বার ৬৩(এ) অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়েছে। তিন বারই প্রধান বিচারপতিগণ এর রায় লিখেছেন, কোন রায় ছিলো বিভক্তির এবং কোন রায়ছিল ঐক্যমতের (সর্বসম্মত)। পাকিস্তানের সংবিধানেও ফ্লোরক্রসিং এর জন্য সদস্যপদ বাতিলের বিধান রয়েছে।
পাকিস্তানের সংসদের নাম “জাতীয় পরিষদ” এটার আবার আরো একটা সাংবিধানিক নামও আছে “মজলিস-ই-সুরা”
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে “ভোটদান থেকে বিরত থাকার” কথাটি যুক্ত নাই। অন্য দিকে পাকিস্তানের সংবিধানের ৬৩(এ) অনুচ্ছেদে “ভোটদান থেকে থাকার” কথাটি যুক্ত আছে। সাধারণত দলের সিদ্ধান্ত থাকে, দলের পক্ষে ভোটদানের জন্য। কেউ ভোটদান থেকে বিরত থাকলে ধরে নেয়া হয় তিনি ভোটদেননি বা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন। এতএব ভোটদান থেকে বিরত থাকলেও তার সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে।
পাকিস্তানে ফ্লোরক্রসিং এর ব্যাপারে দলের প্রধান সিদ্ধান্ত নিবেন এবং সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করলে সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে।
আমার জানা মতে পাকিস্তানে কোন বড় দল তাদের সংবিধান থেকে ৬৩(এ) অনুচ্ছেদ বাতিলের ব্যাপারে জোরালো কোন ভূমিকা রাখেননি। ভারতের দুটি প্রধান রাজনৈতিকদলও তাদের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ ও ১০ম তফসিল বাতিলের জোরালো দাবী জানাননি, তবে হর্স ট্রেডিং (ভেট বেচা-কেনা)-এর বিরুদ্ধে জোড় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অন্য দিকে বাংলাদেশে বিএনপি, আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি সরকার পরিচালনা করলেও অতীতে এখনো বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ফ্লোরক্রসিং সংক্রান্ত ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল বা সংশোধনের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করে নি। এবং এ ব্যাপারে দেশের তিনটি বৃহত রাজনৈতিকদলের মধ্যে কোন সমোঝতা তো দূরের কথা কোন আলোচনাও হয়নি। তবে এই দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে অতীতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ একাধিক বার সংশোধিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে অতিদ্রুত গজিয়মান/উদীয়মান রাজনৈতিকদল বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামির পক্ষ থেকে ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল বা সংশোধনের দাবী উঠেছে। অতি সম্প্রতি এই দলের আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলিয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি কে সংসদের বৈঠকে বলতে শোনা গেছে- ৭০ অনুচ্ছেদ রাখার ব্যাপারে আমাদের কোন আপত্তি নাই, তবে ৭০ অনুচ্ছেদে শুধু মাত্র সরকারের বিরুদ্ধে আনিত অনাস্থা প্রস্তাবে দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোটদিলে সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে- একথাটি যুক্ত করে দিলেই চলবে এর সাথে আর কিছু থাকার দরকার নাই। তিনি ৭০ অনুচ্ছেদের ব্যাপারে অনেকটা এরকম কথাই বলেছেন। ডা. শফিক এমপি-এর কথা শুনে মনে হয় সংসদে আইন পাশ থেকে শুরু করে সববিষয় (একটি বিষয় ছাড়া) বাকি সব বিষয়ে দলের বিপক্ষে সদস্যরা ভোট দিতে পারবেন, এতে কারো সদস্যপদ বাতিল হবে না।
একটি দল প্রার্থি মনোনয়ণ দেয়, প্রতিক বরাধ্যদেয় এবং প্রার্থির কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নেয় যে, তিনি দলের গঠনতত্রের বিধিবিধান ও দলের সৃংক্ষলা মেনে চলবেন। কিন্তু ঐ প্রার্থি নির্বাচিত হওয়ার পরে যদি সংসদের বৈঠকে একটির পর একটি অথবা বারবার দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিতে থাকেন তাহলে ঐ পার্টির সংসদিয় দলের মধ্যে বিভাজন/মতবিরোধ/গ্রুপিং চাঙ্গা হতে থাকবে এবং এক পর্যায়ে ঐ দলটি অনাস্থা ভোটেও হেরে যাবে। এভাবে চলতে থাকলে দেখা যাবে জানুয়ারিতে একদল ক্ষমতায় আছে আবার ডিসেম্বরে আরেকদল ক্ষমতায় এসেগেছে। এবং ষরযন্ত্রকরীরাও পছন্দের দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য বা অপছন্দের দলকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য সবসময় সক্রিয় থাকার সুযোগ পাবে।
আবার এটাও ইদানিং ধীরেধীরে সুস্পস্টভাবে প্রতিয়মান হচ্ছে যে, আওয়ামীলীগ-এর চেয়েও বিএনপিতে গুপ্ত-র সংখ্যা অনেক বেশি। সিদ্ধান্ত এখন সরকারি দল বিএনপির-তারা ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রেখে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চায়, নাকি ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলকরে দ্রুত ক্ষমতা হারাতে চায়।