।।বিকে আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এই সংঘর্ষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ৪৪৪তম ব্রিগেড অংশ নিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এমন অবস্থায় বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির জাতীয় ঐক্য সরকার।
সোমবার ১২ মে রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে সোমবার রাতে সশস্ত্র সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর স্বীকৃত জাতীয় ঐক্য সরকারের (জিএনইউ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সবাই যেন ঘরেই থাকেন এবং বাইরে না যান।
সংঘর্ষ শুরু হয় ত্রিপোলির সালাহ আল-দিন এবং আবু সালিম এলাকায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সূত্রে জানা গেছে, শহরের বিভিন্ন জায়গায় গুলির শব্দ শোনা গেছে।
সংবাদমাধ্যম লিবিয়া আল আহরার টিভি জানিয়েছে, “স্ট্যাবিলিটি সাপোর্ট অ্যাপারাটাস” নামে পরিচিত একটি আধাসামরিক বাহিনীর প্রধান আবদুল গনি আল-কিকলি নিহত হয়েছেন বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে—এ ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
এদিকে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে মিতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করে।
তবে কিছুক্ষণ পর বিমানবন্দরের পরিচালক ইব্রাহিম ফারকাশ জানান, বিমান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়েছে এবং আকাশপথ বর্তমানে নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্রের লিবিয়া দূতাবাসও জাতিসংঘের আহ্বানে সায় দিয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে “ত্রিপোলিতে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে শান্তি রক্ষার আহ্বান” জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হওয়ার পর থেকে লিবিয়া ক্রমাগত রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার মধ্যে রয়েছে। উত্তর আফ্রিকার এই দেশটিতে প্রতিদ্বন্দ্বী মিলিশিয়া, রাজনৈতিক দল ও সামরিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই এখনও থামেনি, যার সর্বশেষ উদাহরণ এই ত্রিপোলির সংঘর্ষ।