।।বিকে রিপোর্ট।।
ছয়টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ভুক্তভোগী আমানতকারীরা তিন বছরের মধ্যে আমানতের অর্থ ফেরতের সুস্পষ্ট রূপরেখা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার ১৫ এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘অ্যালায়েন্স অব সিক্স এনবিএফআইস ডিপোজিটরস রিকভারি কমিটি’র ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা।
একইসঙ্গে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানও জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নজরুল সংগীতশিল্পী নাশিদ কামাল।
এ সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরা উপস্থিত ছিলেন। ভুক্তভোগীরা জানান, মোট ছয়টি এনবিএফআই প্রতিষ্ঠানে দুই হাজারের বেশি আমানতকারী তাদের সঞ্চিত অর্থ আটকে পড়ার কারণে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন।
সংকটাপন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— ফার্স্ট ফিন্যান্স, ফারইস্ট ফিন্যান্স, আভিভা ফিন্যান্স, পিপলস লিসিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিসিং।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরা অব্যবস্থাপনা, দুর্বল সুশাসন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতার কারণে ভোগান্তিতে রয়েছেন। ব্যাংক খাতে আমানত সুরক্ষা ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা থাকলেও এনবিএফআই খাতে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, সমস্যাগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চালু করতে হবে, লিকুইডেশন ও অর্থ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং আমানতকারীদের ন্যায্য অধিকার ফেরত দিতে হবে।
ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব প্রতিষ্ঠানে বহু পরিবারের সঞ্চয় আটকে থাকায় চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন ব্যয় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মুনিরা খান বলেন, ২০২০ সাল থেকে তিনি ও তার পরিবার পিপলস লিজিংয়ে আমানত রাখলেও এখনও টাকা ফেরত পাননি। তিনি দাবি করেন, প্রায় দুই হাজার পরিবার একই সংকটে রয়েছে।
আরেক ভুক্তভোগী আক্তারি বেগম বলেন, তার স্বামী পেনশনের প্রায় ১৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন, যা ফেরত না পাওয়ায় চিকিৎসা ব্যাহত হয় এবং পরবর্তী সময়ে তিনি মারা যান।
ভুক্তভোগীরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে হবে এবং আর্থিক খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে।
এ সময় জাতীয় প্রেসক্লাবে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা, যারা দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরেন। সূত্র- বাংলা ট্রিবিউন।