।।বিকে রিপোর্ট।।
আজ ১৫ আগস্ট।
১৯৭৫ সালের এই দিনে সপরিবারে নিহত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে সপরিবারে জীবন দিতে হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তার পরিবারের ছয় বছরের শিশু থেকে শুরু করে অন্তঃসত্ত্বা নারীও সেদিন ঘাতকের গুলি থেকে রেহাই পায়নি। আজ তার ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী।
১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্রলীগ গঠনের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর বাহান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন ও ছেষট্টির ছয় দফা প্রণয়নে ভূমিকা রেখে এবং ১৯৬৮ সালে তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান আসামি হিসেবে শেখ মুজিব বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠেন। এবং রাজণীতির ধারাবাহিকতায় তাঁর হাত ধরেই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।
স্বাধীনতার মাত্র ৪ বছর পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘরে সেই মর্মান্তিক ঘটনা। সেদিন প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেল এবং দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল। সেদিন বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত এবং তার ছেলে আরিফ ও সুকান্তবাবু, মেয়ে বেবি, বঙ্গবন্ধুর ভাগনে শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলকে হত্যা করা হয়। এ সময় বিদেশে অবস্থান করায় বেঁচে যান দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করতে খন্দকার মোশতাক আহমেদ জারি করেন ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স। একুশ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি বাতিল করে অভিযুক্তদের বিচারের পথ সুগম করে। ১৯৯৮ সালে ১৫ জনের ফাঁসির রায় হলেও ২০০১ সালের ক্ষমতার পটপরিবর্তনে আপিল বিভাগে আটকে থাকে বিচার। ২০০৮ সালে ফের আওয়ামী লীগ সরকারে এসে বিচারের কাজ শেষ করে ও ফাঁসির রায় কার্যকর করে।
দীর্ঘ ১৭ বছরের ষ্বৈরশাসনের পর গত বছর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ ক্ষমতাচ্যুত হযে ভারতে পালিয়ে যান। দলের অধিকাংশ শীর্ষ নেতৃত্ব গোপনে পালিয়ে দেশত্যাগ করে। জাতীয় শোক দিবসের তালিকা থেকে বাদ পড়ে দিনটি।
আওয়ামী লীগের শাসনের সময় তার মৃত্যুর এই দিনে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পালন করা হতো। আগস্ট মাসজুড়েই শোকের মাস হিসেবে পালন করা হতো নানা কর্মসূচি। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দিনটি পালন করতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শক্তিও দৃশ্যমান নয়।
গত বছরের মতো এবারও দিনটিতে নেই তেমন কোনো কর্মসূচি। সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও বঙ্গবন্ধুর ৫০তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ।
দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল সকাল ১১টায় নিজ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। বিবৃতিতে বাংলাদেশ জাসদ উল্লেখ করেছে, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের অপরাধের কারণে যেমনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডকে জায়েজ করা যায় না, তেমনি শেখ হাসিনাকে প্রত্যাখ্যান করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকেও খাটো করা যাবে না। দিনটি সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।