।।বিকে ডেস্ক।।
ইতিবাচকভাবে দেখলেও জুলাই সনদ চূড়ান্ত করার আগে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল বলে মনে করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বৃহস্পতিবার ২৮ আগস্ট রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিক্রিয়ায় তারা এইমত জানায়।
আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল বিচার ও সংস্কার।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ৬টি উপায় নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে মতামত পাওয়া গেছে, যার মধ্যে আমরা গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি। অন্যান্য দলের প্রস্তাবে গণভোট ও সংবিধান সংস্কার সভাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব রয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা হবে, তার সঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতির সম্পর্ক রয়েছে।
এই আলোচনা চলাকালেই প্রধান উপদেষ্টার একপাক্ষিকভাবে নির্বাচনের সময় ঘোষণা আমাদের হতবাক করলেও, বৃহত্তর স্বার্থে আমরা তা মেনে নিয়েছিলাম।
প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগের সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সেই সময়ের মধ্যে সংস্কার ও বিচারের বিষয়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি অর্জন করা প্রয়োজন হবে।
আরিফুল ইসলাম আদীব আরও বলেন, কিন্তু হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করছি অজানা কারণে ঐকমত্য কমিশনের পরবর্তী দফার বৈঠক পেছানো হয়েছে এবং এখনো জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার উপায় নির্ধারণ হয়নি।
জুলাই সনদ চূড়ান্ত না করে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত না হয়ে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা ঐকমত্য কমিশন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শামিল।
এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, আমরা মনে করি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য নির্বাচন আয়োজন প্রয়োজন, আমরা কোনোভাবেই নির্বাচন বিরোধী নই। সেদিক থেকে রোডম্যাপ ঘোষণা ইতিবাচক। তবে, যত দ্রুত জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি হবে, তত দ্রুত নির্বাচনের দিকে যাওয়া যাবে। সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না করে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ ভবিষ্যতে সংকট তৈরি করতে পারে, যার দায় সরকারকেই নিতে হবে।
সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।এ সময় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব আরিফ সোহেলসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।