।।বিকে রিপোর্ট।।
গত তিনটি অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দিতে জাতীয় পার্টি সহযোগিতা করেছে। সুতরাং তারা আওয়ামী লীগের অংশ। এখন তারা আওয়ামী লীগের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়ে সরকারকে আরও বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।
রবিবার ৩১ আগস্ট রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আদীব জানান, অনেকগুলো বিষয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে। সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অবহিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তরণে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রধান উপদেষ্টাকে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের এক বছর হয়ে যাওয়ার পরেও আমরা এখনো দেখতে পাচ্ছি, যারা আহত হয়েছেন তাদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং তাদের নিরাপত্তা সেই বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি। আমরা কিছুদিন আগে দেখেছিলাম শহীদ পরিবাররা তাদের দাবিতে মাঠে নামলে সেখানে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং বেশ কিছু শহীদ পরিবারের সদস্যরা আহত হন। আমরা সরকারের কাছে শহীদ পরিবার এবং আহত সহযোদ্ধা যারা আছেন, তাদের পুনর্বাসন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আহ্বান জানিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা অংশগ্রহণ করেছেন। সেক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেশ কিছু লোক আটক হয়েছিল। তাদেরকে বের করতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখনো সেখানে ২৫ জন আইনি জটিলতায় আছেন। সে বিষয়ে যেন সরকার উদ্যোগ নেয় সে বিষয়টিও আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এনসিপির এই নেতা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে একটি গুম কমিশন করা হয়েছে। গতকালকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস ছিল এবং সেই গুম কমিশন স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশে যে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম হয়েছে, সেখানে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছে এবং প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আমরা সরকারের কাছে সুস্পষ্টভাবে দাবি করেছি সরকার গুম কমিশনের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে রাষ্ট্রীয় যেসব সংস্থার মধ্যে যেসব সদস্যরা এ ধরনের অভিযোগে অভিযুক্ত, তাদের বিষয়ে যেন সুস্পষ্ট ব্যবস্থা নেয়।
তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র দেওয়া হয়েছে সেই ঘোষণাপত্রে সরকার উল্লেখ করেছে, গত তিনটি নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট সরকার এখানে চেপে বসেছিল। ফলে সেই তিনটি অবৈধ নির্বাচনে সরাসরি ফ্যাসিস্টের সহযোগী হিসেবে এবং নির্বাচনকে অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য জাতীয় পার্টি সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে।
শুধু তাই নয়, গত নির্বাচনে আপনারা দেখেছেন জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে যে নির্বাচনী প্রচারণা পোস্টারগুলো করা হয়েছে, সেখানে তারা বর্তমান যে জাতীয় পার্টির দুই গ্রুপের যে মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নু এবং শামীম হায়দার পাটোয়ারী তাদের পোস্টারের সুস্পষ্ট লেখা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। তার মানে জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
যেহেতু রাষ্ট্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে আনার জন্য প্রকাশ্যে একটা নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের বিষয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়া এবং বিগত সময় অবৈধ সংসদকে বৈধতা দানের তাদের যে পদক্ষেপ সে বিষয়গুলো আমলে নিয়ে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম যেন স্থগিত করার বিষয়ে সরকার আরো বেশি কার্যকর হয়, সে বিষয়টি আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে আমলে নেওয়ার জন্য বলেছি।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে আদীব বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য আগামি নির্বাচনকে গণপরিষদ নির্বাচন এবং এরপর নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাদের সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতার জায়গাটা নিশ্চিত করবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করতে যমুনায় পৌঁছে এনসিপির প্রতিনিধিদল। চার সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।