।।বিকে রিপোর্ট।।
আদালত কর্তৃক ঘোষিত ফেরারি আসামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন- এই বিধান আইনে যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
অনলাইনেও তার মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ প্রস্তাব অনুমোদন পেলে ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।
বুধবার ৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আরপিও (সংশোধন) খসড়া অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালার খসড়া ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সংশোধিত আরপিওর প্রস্তাবে শুধু একক প্রার্থিতায় ‘না’ ভোট, অনিয়ম হলে পুরো আসনের ভোট বাতিল, জোটে থাকলেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট করাসহ অনেকগুলো সংশোধনী আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় বিদ্যমান বাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী বলতে সেনা, নৌ, বিমান ও কোস্টগার্ডকে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া এবার প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাবও করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এ প্রস্তাব গতকাল মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, ইসির প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয় ভোটিং করে পরে তা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে তোলা হবে। উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত হলে এরপর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আইনে সংশোধনী যুক্ত হবে।
এর আগে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য আরপিও এবং আচরণবিধি সংশোধনের অনুমোদন দিয়ে রেখেছে কমিশন। তিনি বলেন, আরপিও সংশোধন প্রস্তাব আমরা সই করে ফেলেছি। বেশ কিছু প্রস্তাবের মধ্যে সমভোট পেলে লটারি প্রথা বাদ দিয়ে আবার নির্বাচন, বিনা ভোটের বিধান বাদ দিয়ে ‘না’ ভোট যুক্ত করা, অনিয়ম হলে পুরো আসনে ভোট বাতিল, ঋণ খেলাপি হলে ভোটের পরে ব্যবস্থা নেয়ার মত ইসির ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে অনেকগুলো বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, মোটামুটি সবগুলোই বহাল রয়েছে। ৪০-৪৪টার মতো সংশোধনী প্রস্তাব রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি আইন সংস্কার নিয়ে মাসখানেক ধরে দফায় দফায় পর্যালোচনা করে ইসি। এরপর গত ১১ আগস্ট ইসির নবম সভায় আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করে ইসি। যাতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মতামতের পর সার্বিক প্রস্তাব আমলে নিয়ে এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ইসি আরপিও সংশোধনের কাজ করে।
পলাতক নেতারা নির্বাচন করতে পারছেন না
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ সাবেক মন্ত্রী এমপি ও নেতারা দেশ ছেড়েছেন। অনেকে পালিয়ে আছেন। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যার অভিযোগে তাদের বিচার চলছে। অনেকের পলাতক ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
এমন প্রেক্ষাপটে ইসির আরপিও সংশোধন প্রস্তাবে আদালত ঘোষিত ফেরারি আসামিকে ভোটে অযোগ্য রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া অনলাইনে রাখলে সুযোগ বন্ধ রাখায় আওয়ামী লীগের এইসব নেতা মন্ত্রী এমপিরা আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অযোগ্য বিবেচিত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে সংস্কার কমিশন এমন বিধান রাখার প্রস্তাব করেছিল। ইসি এর বিরোধিতা করে মার্চে ঐকমত্য কমিশনে চিঠি পাঠিয়ে বলেছিল, এমন বিধান করা হলে তা অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এখন সেই প্রস্তাব আরপিওতে যুক্ত করার কথা বলেছে ইসি।
‘না ভোটের’ বিধান
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলে সেখানেই ‘না’ ভোট হবে। একক প্রার্থী হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়ে যেত আগে, আমরা বলছি এখন ‘না’ ভোটের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।”
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২০১৪ সালে ১৫৩ আসনে নির্বাচনের পর এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে বর্তমান ইসি।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকারের বিষয়ে অনলাইনে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও আরপিও সংশোধনীতে যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে ইসি।
আরপিওর সংশোধন প্রস্তাবে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং হলে সরকারের অনুমোদনের জন্য তা উপদেষ্টা পরিষদের সভায় উত্থাপন হবে। সেই ধাপ পেরিয়ে রাষ্ট্রপতি সংশোধনীর অধ্যাদেশ জারি করবেন। অপরদিকে, মন্ত্রণালয়ের সায় পাওয়ার পর আচরণবিধি গেজেট আকারে প্রকাশ করবে ইসি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি আইন সংস্কার নিয়ে মাসখানেক ধরে দফায় দফায় পর্যালোচনা করে ইসি। এরপর গত ১১ আগস্ট ইসির নবম সভায় আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করে ইসি। যাতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মতামতের পর সার্বিক প্রস্তাব আমলে নিয়ে এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ইসি আরপিও সংশোধনের কাজ করে।